25 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইশতেহার না মানলে নাগরিকরা আদালতে, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলমের মন্তব্য

ইশতেহার না মানলে নাগরিকরা আদালতে, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলমের মন্তব্য

৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ইশতেহারকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে জানান, সরকার ক্ষমতায় এলে এই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থতা দেখা দিলে নাগরিকদের আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে, আদালতে আবেদন করা সম্ভব হবে বলে তিনি জোর দেন।

ইশতেহারকে কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণার বদলে দলীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্ষমতায় আসার পর এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়ন না করলে তা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে, এটাই বদিউল আলমের মূল বক্তব্য। তিনি উল্লেখ করেন, বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে চমৎকার বাক্যাংশের সমাহার থাকে, তবে বাস্তবায়নের দিক থেকে তা প্রায়শই শূন্যে শেষ হয়।

বিশেষ করে নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দল ৫ শতাংশ কোটা রাখার কথা উল্লেখ করেছে। তবে বাস্তবে একটি দল কোনো নারী প্রার্থীই তালিকাভুক্ত করেনি, আরেকটি দল ৫ শতাংশের চেয়েও কম নারীর সংখ্যা দাখিল করেছে। বদিউল আলমের মতে, এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে দেখায় যে দলগুলো ইশতেহারকে শুরু থেকেই লঙ্ঘন করেছে।

সুজনের পর্যবেক্ষণ দল ক্ষমতায় আসার পর ইশতেহারের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে। প্রথম ৬০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন করা হবে, এরপর নিয়মিতভাবে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। এই মূল্যায়নের ফলাফল জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে, যাতে নাগরিকরা সরকারী পদক্ষেপের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়।

বদিউল আলম আরও জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ভোটের প্রশ্নে পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে নাগরিকদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই সুজনের আহ্বান, দলগুলোকে তাদের পছন্দের দিক স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

জনগণের অধিকার হল তারা কোন পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে তা জানার। শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ হওয়া উচিত নয়; সেই প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে অর্থায়ন করা হবে, তা সম্পর্কেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। বদিউল আলমের মতে, এই প্রশ্নের উত্তর না দিলে ইশতেহারের বাস্তবায়ন অসম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বিএনপি ও জামাত দুটি আলাদা জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে, তবে এখনো কোনো যৌথ ইশতেহার প্রকাশ করেনি। উভয় দলই নিজেদের স্বতন্ত্র ম্যানিফেস্টো প্রস্তুত করেছে, তবে একত্রে কোনো সম্মিলিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি।

জুলাই সনদ সংক্রান্ত বিষয়ে বিএনপি সব বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি না দিলেও, জামাত ও এনসিপি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিয়েছে। বদিউল আলমের মতে, এই পার্থক্য ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সনদের সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে।

গণভোটের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল, যেখানে জামাত ও এনসিপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি স্পষ্টভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে রয়েছে। এসব ভিন্নমত ভোটারদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করবে, বদিউল আলম উল্লেখ করেন।

সুজনের পর্যবেক্ষণ দল সব রাজনৈতিক দলকে মৌলিক গণতান্ত্রিক বিষয়গুলো, যেমন নারী অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং ভোটের স্বাভাবিকতা, নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে। ক্ষমতায় আসা দল যাই হোক না কেন, এই মৌলিক নীতিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এটাই বদিউল আলমের শেষ বার্তা।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে বদিউল আলমের মন্তব্যের ভিত্তিতে সুজনের দল আগামী সপ্তাহে প্রথম মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রতিবেদন নাগরিকদের কাছে সরকারী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন স্তর সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সরবরাহ করবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপের পথ সুগম করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments