কোলকাতার এডেন গার্ডেন্সে সোমবার অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ সি ম্যাচে স্কটল্যান্ড ২০ ওভারের শেষে ২০৭/৪ স্কোর করে ইটালির ২০৮ রান জয়ের লক্ষ্যে চ্যালেঞ্জকে ৭৩ রানে পরাজিত করেছে।
স্কটল্যান্ডের ওপেনিং পার্টনার জর্জ মুনসি এবং মাইকেল জোন্স ১২৬ রানের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছেন; জোন্স ৩৭ রান যোগ করেছেন, আর মুনসি ৮৪ রান করে দলকে শীর্ষ স্কোরে পৌঁছে দেন।
মুনসি পাওয়ারপ্লে শুরুর ছয় ওভারে ধারাবাহিক ফোরের মাধ্যমে ইটালির বোলিং আক্রমণকে ব্যাহত করেন। তিনি ৪০ রানে ড্রপড হন অ্যান্থনি মোস্কা, তবে দ্রুত ৩০ বলের মধ্যে অর্ধশতক পৌঁছিয়ে একটি ছয় দিয়ে অর্ধশতক সম্পন্ন করেন।
মিডল ওভারগুলোতে ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেন ১৮ বলের মধ্যে ৪১ রান না-আউট রূপে যোগ করেন, আর অফ‑স্পিনার মাইকেল লিস্ক ৫ বলের মধ্যে ২২* রান করে শেষের পাঁচটি ডেলিভারিতে দুইটি ফোর এবং দুইটি সিক্স মারেন।
ইটালির দল টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেয়, তবে শুরুর ওভারে দ্রুত তিনটি উইকেট হারায়। ক্যাপ্টেন ওয়েন মাডসেন চতুর্থ ওভারে বাউন্ডারি থামাতে গিয়ে কাঁধে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যান, ফলে তিনি ব্যাটিংয়ে অংশ নিতে পারেন না।
মাডসেনের অনুপস্থিতিতে ইটালির ব্যাটিং লাইন‑আপ ভেঙে পড়ে, তবে ভাইবোন বেন ও হ্যারি মানেনটি তৃতীয় উইকেটের পরে ৭৩ রানের চতুর্থ‑উইকেট পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা দলকে ১১৩/৩ স্কোরে স্থিতিশীল করে।
হ্যারি মানেনটি ৩৭ রান করে আউট হন, আর বেন মানেনটি ৩১ বলের মধ্যে ৫২ রান করে দ্রুত স্কোর বাড়ান। তবে বেনের পরই ইটালির ব্যাটিং দ্রুত ধসে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত ১৬.৪ ওভারে ১৩৪ রানেই আটকে যায়।
স্কটল্যান্ডের বোলার মাইকেল লিস্ক ৪ উইকেটের সঙ্গে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ইটালির স্কোরকে সীমাবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ইটালির ব্যাটিংকে দ্রুত শেষ করে দেয়।
২০৭/৪ স্কোর দিয়ে স্কটল্যান্ড টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ টিম টোটাল রেকর্ড করেছে, যা তাদের গ্রুপে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করে।
ম্যাচের দর্শকদের মধ্যে কিছু ইটালিয়ান ভক্ত নীল রঙের শার্টে সজ্জিত হয়ে দলকে উত্সাহিত করেন, যদিও ফলাফল প্রত্যাশিত ছিল না।
ক্যাপ্টেন মাডসেনের কাঁধের আঘাতের পরামর্শে ডিসলোকেটেড শোল্ডার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়; তিনি পূর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ড হকি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বংশগত পাসপোর্টের মাধ্যমে বর্তমানে ইটালির হয়ে খেলছেন।
স্কটল্যান্ডের জয় মূলত শক্তিশালী ওপেনিং পার্টনারশিপ, দ্রুত গতি সম্পন্ন মিডল‑ওভার ব্যাটিং এবং লিস্কের কার্যকর বোলিংয়ের সমন্বয়ে অর্জিত হয়েছে। ইটালির প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা যদিও কঠিন, তবে মানেনটি ভাইদের পার্টনারশিপে কিছু প্রতিশ্রুতি দেখা যায়।
এই ফলাফলের পর স্কটল্যান্ড গ্রুপ সি-তে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেবে, আর ইটালির দল ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে উন্নতি করার লক্ষ্য রাখবে।



