25 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনবেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবে মেক্সিকোর দূরবর্তী জঙ্গলে হাইতিয়ান পরিবারের গল্পের বিশ্বপ্রিমিয়ার

বেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবে মেক্সিকোর দূরবর্তী জঙ্গলে হাইতিয়ান পরিবারের গল্পের বিশ্বপ্রিমিয়ার

মেক্সিকোর লেখক-নির্দেশক জোয়াকিন দেল পাসোর নতুন ছবি “দ্য গার্ডেন উই ড্রিমড” ১৩ ফেব্রুয়ারি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্যানোরামা বিভাগে বিশ্বপ্রিমিয়ার দেখাবে। ছবিটি হাইতিয়ান দম্পতি ও তাদের দুই মেয়ের মেক্সিকোর এক অপ্রবেশ্য জঙ্গলে নতুন জীবনের সন্ধানে যাত্রা চিত্রিত করে।

জোয়াকিন দেল পাসো, পূর্বে “দ্য হোল ইন দ্য ফেন্স” ও “প্যানামেরিকান মেশিনারি” দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি অর্জনকারী, তার তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে মানবিক স্থিতিস্থাপকতা ও প্রেমের সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করেছেন। তার পূর্বের কাজগুলোতে সামাজিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের মিশ্রণ দেখা গিয়েছে, যা এই নতুন প্রকল্পেও স্পষ্ট।

চলচ্চিত্রটি আমন্ডো সিনে ও কার্কাভা সিনের যৌথ উৎপাদনে তৈরি হয়েছে। উভয় প্রযোজনা সংস্থা মেক্সিকোর স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিকাশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে, এবং এই প্রকল্পে তাদের সহযোগিতা ছবির গুণগত মানকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

কাস্টে হাইতিয়ান অভিনেতা নেহেমি বাস্টিয়েন, ফস্টিন পিয়ের, কিমায়েল হলি প্রেভিল, রুথ আইচা পিয়ের নেলসন এবং কার্লোস এসকুইভেল অন্তর্ভুক্ত। এই অভিনেতারা হাইতিয়ান সম্প্রদায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করেছেন, যা দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তুলবে।

চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন গোকহান তিরিয়াকি, যিনি “ওয়ান আপন আ টাইম ইন অ্যানাটোলিয়া” ছবির জন্যও পরিচিত। তিনি মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় অংশের একটি ফার গাছের জঙ্গলে শুটিং পরিচালনা করেছেন, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মাইগ্রেটিং মনার্ক প্রজাপতি বিশ্রাম নেয়। এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ছবির দৃশ্যমান সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে।

সম্পাদনা কাজ রাউল বার্রেরাসের হাতে সম্পন্ন হয়েছে। মেক্সিকোর রোমা প্রযোজক নিকোলাস সেলিসের পিমিয়েন্টা ফিল্মস দেশীয় বাজারে বিতরণ দায়িত্বে রয়েছে, আর বিশ্বব্যাপী বিক্রয় m-appeal পরিচালনা করবে। এই বিতরণ নেটওয়ার্ক ছবির আন্তর্জাতিক পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়াবে।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এসথার ও জুনিয়র নামের দম্পতি এবং তাদের মেয়ে ফ্লোর ও আইশা। তারা একটি দূরবর্তী জঙ্গলে বসতি স্থাপন করে, যেখানে অবৈধ গাছ কাটা তাদের জীবনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরিবারটি এই কঠিন পরিবেশে নিজস্ব সুরক্ষা ও শান্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

জঙ্গলের গাছের ছায়ায় মনার্ক প্রজাপতিরা অবিরাম উড়ে বেড়ায়, যা ছবিতে স্বপ্নময় ও নাজুক পরিবেশের প্রতীক হিসেবে কাজ করে। প্রজাপতিগুলোকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে পরিচালক মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা ও ভঙ্গুরতা তুলে ধরতে চান।

জুনিয়র তার অতীতের গাঁটের সঙ্গে লড়াই করে, আর এসথার পরিবারকে মানসিক সমর্থন দিয়ে এক ধরনের স্থিতিশীলতা প্রদান করে। তার প্রচেষ্টা পরিবারকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে, যদিও চারপাশের বিশ্ব ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

চিত্রের মূল থিম হল প্রেম ও সহানুভূতির ক্ষুদ্র বুদ্বুদ, যা কঠিন বাস্তবতার মাঝেও টিকে থাকতে পারে। পরিবারটি এই বুদ্বুদকে রক্ষা করার জন্য সংগ্রাম করে, যা দর্শকের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলবে।

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্যানোরামা প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই ছবি প্রদর্শিত হবে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। উৎসবের এই বিভাগে নতুন ও উদ্ভাবনী কাজগুলোকে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়, এবং দেল পাসোর এই কাজটি সেখানে স্থান পেয়ে গর্বের বিষয়।

প্রকাশের পর থেকে চলচ্চিত্রটি শিল্প সমালোচক ও দর্শকদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। হাইতিয়ান অভিবাসনের মানবিক দিক, পরিবেশগত সংকট এবং পারিবারিক বন্ধনের গল্প একসাথে মিশে একটি অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। এই চলচ্চিত্রটি মেক্সিকোর স্বাধীন চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments