25 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনিউ জিল্যান্ডের গুলিবর্ষণকারী ট্যারান্ট স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন

নিউ জিল্যান্ডের গুলিবর্ষণকারী ট্যারান্ট স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন

নিউ জিল্যান্ডের ওয়েলিংটন আদালতে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্ট তার ২০১৯ সালের মসজিদ গুলিবর্ষণের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতে চেয়েছেন। ট্যারান্ট ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে জুমা নামাজের সময় গুলি চালিয়ে ৫১ মুসলিমকে হত্যা এবং আরও ৪০ জনকে আহত করেন, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণ হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। সেই ঘটনার পর তাকে ৫১টি হত্যার অভিযোগ, ৪০টি হত্যার প্রচেষ্টা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।

ট্যারান্ট প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে এক বছর কারাগারে থাকার পর ২০২০ সালে তিনি দোষ স্বীকার করে গৃহবন্দি না করে আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি পান। শাস্তি প্যারোলবিহীন, অর্থাৎ তিনি কখনো মুক্তি পাবেন না। দোষ স্বীকারের সময় তিনি মানসিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন না, এই দাবি করে তিনি এখন আদালতে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।

ট্যারান্টের আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, দোষ স্বীকারের সময় তার মানসিক অবস্থা দুর্বল ছিল এবং কারাগারের কঠোর পরিবেশে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছিল। তিনি বলেন, “সেই সময়ে আমি সুস্থ মানসিক অবস্থায় না থাকায় যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।” তিনি স্বীকারোক্তি ‘স্বেচ্ছায়’ নেওয়া নয়, বরং ‘অমানবিক ও নির্যাতনমূলক’ কারাবাসের ফলে গৃহীত একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে এটিকে চিহ্নিত করেছেন।

আদালত ট্যারান্টের আবেদন পর্যালোচনা করবে এবং নির্ধারণ করবে যে, কারাবাসের পরিস্থিতি কি তাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে দোষ স্বীকার করা থেকে বাধা দিয়েছে কিনা। ট্যারান্টের আইনজীবীদের নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, ফলে তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আদালতের নথিতে উল্লেখ আছে যে, আপিল আদালত এই বিষয়টি বিশদভাবে পরীক্ষা করবে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত মানসিক মূল্যায়ন আদেশ করতে পারে।

২০১৯ সালের গুলিবর্ষণটি আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করে এবং ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক নিন্দা পেয়েছিল। ট্যারান্টের কাজের ফলে নিউ জিল্যান্ডের নিরাপত্তা নীতি ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়টি পুনরায় আলোচনার মুখে এসেছে। সরকার তখনই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেয়।

ট্যারান্টের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদন এখন আদালতে বিবেচিত হচ্ছে। যদি আদালত তার আবেদন গ্রহণ করে, তবে তার দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে দেওয়া আজীবন কারাদণ্ডের বৈধতা পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অন্যদিকে, যদি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে তার শাস্তি অপরিবর্তিত থাকবে এবং তিনি কারাগারে অব্যাহতভাবে বসে থাকবেন।

এই মামলাটি নিউ জিল্যান্ডের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকার রক্ষার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চললেও, ট্যারান্টের মামলায় উত্থাপিত মানসিক স্বাস্থ্য ও কারাবাসের শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা দেশের আইন সংস্কার আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments