ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী আজ দুপুরে মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় কোনো হুমকি নেই এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে উন্নত।
সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দেন, ঢাকা মহানগরে মোট ১,৬১৪টি ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫১৭টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া দূর্গম এলাকায় অবস্থিত ৩৭টি কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। এই বিভাজন ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন সদস্য মোতায়েন করা হবে। দূর্গম এলাকায় অবস্থিত ৩৭টি কেন্দ্রে পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থেকে সাতজন করে পুলিশ কর্মী উপস্থিত থাকবে। এভাবে মোট নিরাপত্তা কাঠামোকে দৃঢ় করে ভোটের সময় কোনো অনিয়মের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা হয়েছে।
কমিশনারের মতে, এই ব্যবস্থা ভোটের সময় নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ভোটদাতা, প্রার্থী ও কর্মীদের নিরাপত্তা বজায় রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এবং পরে সকল কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধান থাকবে, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।
পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত পনেরো মাসে ডিএমপি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পুলিশের কাজের ধরনই প্রমাণ করে যে তারা কোনো দলীয় পক্ষপাতিত্বে লিপ্ত নয়।
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব পেশাজীবীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
গত শুক্রবার শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যামামলার জাতিসংঘের তদন্ত দাবিতে প্রতিবাদকারীরা আন্দোলন করায় পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠে। কমিশনার ব্যাখ্যা করেন, সরকারপ্রধানের বাসভবন ঘেরাও করে ঢোকার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কোনো অবৈধ দখল অনুমোদিত হয় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাতে ১১ টায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে আক্রমণ ঘটার সময় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেননি। সেই পরিস্থিতিতে পুলিশকে সময়মতো ঘটনাস্থলে পাঠানো সম্ভব হয়নি, যা তিনি স্বীকার করে বলেন।
ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এম নজরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন এবং ভোটের পরে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই কর্মকর্তারা ভোটের ফলাফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
সারসংক্ষেপে, কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা ব্যাপক এবং সুসংগঠিত। গুরুত্বপূর্ণ, সাধারণ ও দূর্গম কেন্দ্রে যথাযথ পুলিশ মোতায়েন, পেশাজীবীর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভোটের সময় কোনো হুমকি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চমৎকার বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।



