দিল্লি পুলিশ সম্প্রতি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, শহরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবগুলো অর্থনৈতিক স্বার্থে তৈরি করা হচ্ছে। এই গুজবগুলোকে ভয় ও আতঙ্কের সঞ্চারকারী হিসেবে বিবেচনা করে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাবলিক রিলেশনস অফিসার সঞ্জয় ত্যাগী উল্লেখ করেন, নিখোঁজদের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কমে এসেছে; অতএব অতিরিক্ত ভয় বা উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিছু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক লাভের চেষ্টা করছে, যা আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য।
গুজবের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট করে কোনো নাম উল্লেখ না করলেও, পুলিশ জানায় যে, সামাজিক মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে অনলাইন এফআইআর দাখিলের সুবিধা রয়েছে, যা দ্রুত তদন্তে সহায়তা করবে। নিখোঁজ শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়; জেলাস্তরের বাহিনী এবং মানব পাচার বিরোধী ইউনিটগুলো সক্রিয়ভাবে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিবৃতির পর কিছু সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারী দাবি করেন যে, একটি বলিউড চলচ্চিত্রের পেইড প্রমোশন থেকে এই গুজবগুলো শুরু হয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রমোশন দল এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ প্রদান করেনি।
পুলিশের পরবর্তী পোস্টে আবারও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে, ফলে অতিরিক্ত উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই। গুজবের বিস্তার রোধে জনগণকে সচেতন হতে এবং কোনো সন্দেহজনক তথ্যের মুখে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ উল্লেখ করে, গুজবের শিকারে পড়া পরিবারগুলোকে মানসিক সহায়তা ও সঠিক তথ্য প্রদান করা হবে, যাতে তারা অপ্রয়োজনীয় ভয় থেকে মুক্তি পায়। এছাড়া, গুজব ছড়িয়ে দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি কঠোর হবে, যার মধ্যে জরিমানা ও কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই সতর্কতা প্রকাশের পেছনে মূল লক্ষ্য হল, সামাজিক মিডিয়ার দ্রুত বিস্তারকে কাজে লাগিয়ে গুজবের মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা এবং অর্থ উপার্জনের প্রচেষ্টা বন্ধ করা। পুলিশ জোর দিয়ে বলছে, কোনো গুজবের ভিত্তিতে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা আইন লঙ্ঘন এবং তা শাস্তিযোগ্য।
অবশেষে, নিখোঁজদের সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে এবং গুজবের প্রভাব কমাতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্য শেয়ার করা এবং অনলাইন এফআইআরের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।



