ব্রিটেনের লেবার পার্টির নেতা স্যার কীর্স স্টারমারকে তার প্রধান স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইফিনের পদত্যাগের খবরের পর থেকে পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। লেবার পার্টির বিভিন্ন স্তরের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারী নীতি ও পার্টির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
ম্যাকসুইফিনের প্রস্থানের ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পার্টির কর্মীরা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে আলোচনা শুরু করে, যাতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা যায়। এই সময়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা “অত্যন্ত তরল ও অস্থির” মুহূর্ত বলে বর্ণনা করছেন, যেখানে কোনো সিদ্ধান্তই অপ্রত্যাশিত নয়।
দায়িত্বের প্রশ্নে পার্টির ভেতরে বিভিন্ন মতামত দেখা যায়; কেউ সরকারকে বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী করে, আবার কেউ স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর কঠোর সমালোচনা করে। তবে একমত যে, স্টারমারের বর্তমান অবস্থানটি কঠিন এবং তার নেতৃত্বের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্টারমারকে যাঁরা সপ্তাহান্তে দেখেছেন, তাঁরা বলছেন তিনি বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীরভাবে সচেতন। তিনি লর্ড ম্যান্ডেলসনের কথায় নিজেকে ধোঁকা খাওয়া নিয়ে রাগে জ্বলে উঠেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে একজন পিয়ারকে নিয়োগের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে দোষারোপ করছেন।
একজন উচ্চপদস্থ পার্টি সদস্যের মতে, স্টারমার নিজেকে এমন অবস্থায় ফেলতে পেরে নিজেই গভীর দুঃখ অনুভব করছেন, “তিনি জানেন যে তিনি বড় ভুল করেছেন এবং তা তাকে গভীরভাবে কাঁদাচ্ছে”। এই আত্ম-সমালোচনা তার নেতৃত্বের সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এখন স্টারমারকে এমন এক সপ্তাহের মুখোমুখি হতে হবে, যেখানে তার সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পার্টির ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করবে। তার নেতৃত্বের সময়ে সর্বদা মর্গান ম্যাকসুইফিন পাশে ছিলেন; এই পরিবর্তন তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।
ম্যাকসুইফিন ছয় বছর আগে স্টারমারের লেবার লিডারশিপের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন এবং পরবর্তী সময়ে বিরোধী পার্টির নেতা হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করেন। হার্টলপুলের বায়-ইলেকশন পরাজয় থেকে ২০২৪ সালের বিশাল জয় পর্যন্ত, তিনি স্টারমারের কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
দুইজনের পটভূমি ও কাজের ধরন ভিন্ন: ম্যাকসুইফিন লেবার পার্টির গহীন জ্ঞানসম্পন্ন একজন রাজনৈতিক অপারেটিভ, যেখানে স্টারমার পঞ্চাশের দশকে ওয়েস্টমিনস্টার আসার পর থেকে তুলনামূলকভাবে হালকা মতাদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছেন। এই পার্থক্যই এখন স্টারমারের নেতৃত্বে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।
ম্যাকসুইফিনের অনুপস্থিতিতে স্টারমার কীভাবে পার্টির অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও জনমত পরিচালনা করবেন, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে। আসন্ন পার্লামেন্ট সেশন, নীতি পরিবর্তন ও জনমত জরিপের ফলাফলই তার নেতৃত্বের স্থায়িত্ব নির্ধারণ করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এখন এই পরিবর্তনকে লেবার পার্টির ভবিষ্যৎ গঠনের মূল মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।



