কেন্দ্রীয় প্যালেসের মুখপাত্রের মতে, প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস ক্যাথরিন এপস্টেইন সম্পর্কিত সর্বশেষ প্রকাশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সবসময় ভিকটিমদের প্রতি মনোযোগ রাখবেন বলে জানিয়েছেন। এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত নথিপত্রে নতুন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়।
এটি রয়্যাল পরিবারের এ বিষয়ে প্রথম জনসাধারণের বিবৃতি, যেখানে পূর্বে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। মুখপাত্রের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান প্রকাশনা ভিকটিমদের কষ্টকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে, তাই রয়্যাল পরিবার তাদের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করছে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর, যিনি প্রিন্স এডওয়ার্ডের বড় ছেলে, তার অতীত সংযোগের কারণে আবার নজরে আসছেন। এপস্টেইনের সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং ২০০৮ সালে এপস্টেইনকে শিশু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পরও তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার তথ্য পুনরায় উন্মোচিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় প্যালেসের মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, “প্রিন্স ও প্রিন্সেস উভয়ই এই ধারাবাহিক প্রকাশে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মনোযোগ সবসময় ভিকটিমদের দিকে থাকবে।” এই মন্তব্যটি রয়্যাল পরিবারের ভিকটিমদের প্রতি সহানুভূতি জোরদার করেছে।
গত সপ্তাহে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর তার উইন্ডসর বাড়ি ত্যাগ করে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হন, যা পূর্বে ঘোষিত সময়সূচির চেয়ে দ্রুত হয়েছে। এই পদক্ষেপটি নতুন তথ্যের আলোকে নেওয়া হয়েছে, যা তার এপস্টেইন সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে।
প্রাথমিকভাবে তিনি রয়্যাল লজ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চলে যাবেন বলে জানানো হয়েছিল, তবে এখন তিনি কিং চার্লসের ব্যক্তিগত স্যান্ডরিংহাম এস্টেটে বসবাস করছেন। এই স্থানান্তরটি রয়্যাল পরিবারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ফল, যা জনমত ও মিডিয়ার চাপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর এবং এপস্টেইনের বন্ধুত্বের ইতিহাস দীর্ঘ, এবং ২০০৮ সালের দোষী সাব্যস্তের পরও এপস্টেইনের সঙ্গে তার যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। তিনি পূর্বে এই সংযোগের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন, তবে কোনো অপরাধের স্বীকারোক্তি করেননি।
তার পূর্বের ক্ষমা প্রার্থনা সত্ত্বেও, তিনি সবসময়ই নিজের অদোষের দাবি বজায় রেখেছেন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অবৈধ কাজের যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই অবস্থানটি রয়্যাল পরিবারের মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত বিশাল নথিপত্রের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরকে আমেরিকান তদন্তে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আহ্বানটি তার অতীত সংযোগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হচ্ছে।
নথিপত্রের মধ্যে এমন কিছু ছবি রয়েছে, যেখানে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরকে এক নারীর ওপর চার পায়ে নেমে থাকা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিগুলোর কোনো প্রেক্ষাপট বা সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, ফলে সেগুলোর প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট নয়।
সেই একই নথিপত্রে ভর্জিনিয়া গিয়াফ্রের সঙ্গে তার একটি বিতর্কিত ছবির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে হয়। এই ছবি পূর্বে অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় ছিল, যেখানে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর ছবিটিকে জাল বলে দাবি করতেন এবং গিয়াফ্রের সঙ্গে কখনো সাক্ষাৎ করেননি বলে বলেছিলেন।
এই নতুন প্রমাণের সামনে, অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর পূর্বে যে ছবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, তা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি এখনও গিয়াফ্রের সঙ্গে কোনো সাক্ষাৎ না হওয়ার দাবি বজায় রেখেছেন, যদিও নথিপত্রে তার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে।
রয়্যাল পরিবারের উপর এই ধারাবাহিক প্রকাশনা এবং তদন্তের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনমতেও পরিবর্তন আসতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের ফলাফল এবং রয়্যাল পরিবারের অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপগুলো দেশের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।



