বাংলাদেশের জামায়াত-এ-ইসলামি ইলেকশন কমিশনের (ইসিসি) সিদ্ধান্তের বিরোধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে। ইসিসি নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে, যা ভোটারদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সীমিত করবে বলে দলটি দাবি করছে।
জামায়াত-এ-ইসলামির সহ-সচিব ও কেন্দ্রীয় প্রচার-সংবাদ বিভাগ প্রধান অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ প্রকাশিত প্রেস রিলিজে উল্লেখ করেছেন, ইসিসি যে নির্দেশটি গ্রহণ করেছে তা অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা আরোপ করে এবং ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্যকে ক্ষুণ্ণ করে। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়সঙ্গত’ বলে ডেকে তৎক্ষণাৎ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
জুবায়ের মতে, ভোটারদের স্বতন্ত্রভাবে ভোটদান নিশ্চিত করা একটি মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মৌলিক শর্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ভোটারদের হাতে মোবাইল ফোন না থাকলে তাদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, ফলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা হ্রাস পাবে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক দলের সমাবেশকারী নাহিদ ইসলামও একই সিদ্ধান্তের বিরোধে ইসিসি অফিসে ঘেরাওের হুমকি দিয়েছেন। তিনি পূর্বে জানিয়েছিলেন, ইসিসি যদি এই নির্দেশনা প্রত্যাহার না করে তবে দলটি অফিসে প্রবেশ করে প্রতিবাদ করবে। তার এই মন্তব্য ইসিসি সিদ্ধান্তের প্রতি রাজনৈতিক দলের সমন্বিত বিরোধকে প্রকাশ করে।
ইসিসি কর্তৃক প্রেরিত চক্রাকার পত্রটি দেশের সকল রিটার্নিং অফিসারকে জানানো হয়েছিল, যেখানে ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা নির্বাচনী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে ইসিসি ব্যাখ্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর (একাধিক মেয়াদে) শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার (বিএনপি চেয়ারপার্সন) মতন উচ্চপদস্থ নেতাদের কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইসিসি সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জামায়াত-এ-ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক দল উভয়ই ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করে ইসিসি সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ বলে সমালোচনা করেছে। উভয় দলই ইসিসি যদি দ্রুত এই নির্দেশনা প্রত্যাহার না করে তবে আইনগত ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।
ইসিসি এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করার ঘোষণা দেয়নি। তবে ভোটের পূর্বে এই ধরনের বিরোধের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলায় প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভোটারদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি, যাতে নির্বাচনের দিন কোনো অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষ না ঘটে। ইসিসি ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলার জন্য মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে।
ভোটের দিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসিসি যে পদক্ষেপ নেবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিগুলোকে যথাযথভাবে বিবেচনা করে সমন্বিত নীতি গঠন করা উচিত।
সারসংক্ষেপে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক দল ইসিসি কর্তৃক মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কঠোর বিরোধ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ইসিসি এখনো এই দাবিগুলোকে স্বীকার করে না, ফলে নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।



