মঙ্গলবার, ঢাকা শহরের বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ ভবনের সামনে, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সমাবেশে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবি করা হয়। সমাবেশটি অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ায় বর্তমান উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তুলে ধরেছেন।
সমাবেশে উপস্থিতদের মতে, অক্টোবরের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত একটি অর্ডার সংশোধনের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, তবে তা অনুমোদিত হয়নি। এই অগ্রগতির অভাবে ব্যাংকের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে এবং কর্মকর্তারা এটিকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ জানান, পূর্বে গভর্নর অবস্থায় থাকা বর্তমান উপদেষ্টা স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন, তবে এখন তিনি তা আর প্রয়োজনীয় নয় বলে গভর্নরকে এক চিঠিতে জানিয়েছেন। এই দ্বিমুখী অবস্থানকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে, উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি একদিনের জন্য হলেও গ্রহণযোগ্য বলে জোর দেন।
বিল্লাহ আরও যোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দল স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যে দল সরকার গঠন করবে, সেটি দ্রুত স্বায়ত্তশাসন বাস্তবায়ন করবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বায়ত্তশাসন না থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকারিতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হবে।
১২ তারিখের নির্বাচনের পর, ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসনের বাস্তবায়ন এবং উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদী।
অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বায়ত্তশাসন অপরিহার্য, তবে এখনো তা নিশ্চিত করার জন্য দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি স্বাধীন ও সক্ষম কেন্দ্রীয় ব্যাংকই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মূল ভূমিকা পালন করবে।
গোলাম মোস্তফা উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে কিছু মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও, প্রত্যাশিত অর্ডার সংশোধন অধ্যাদেশ না হওয়ায় ব্যাংকের কর্মচারীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই অবস্থা ব্যাংকের অভ্যন্তরে মনোবল হ্রাসের পাশাপাশি আর্থিক নীতি প্রণয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের এই সমাবেশ এবং ঘোষণার পর, ব্যাংকের অভ্যন্তরে স্বায়ত্তশাসন ও উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারী পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, ফলে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আরও আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন।



