কারামুক্তের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ভেনেজুয়েলা সরকারবিরোধী বিশিষ্ট রাজনীতিক হুয়ান পাবলো গুয়ানিপা রাত্রিকালীন সময়ে রাজধানী কারাকাসের লোস চোরোস এলাকায় অপহৃত হয়েছেন। তার অপহরণ রোববার রাতের সময় ঘটেছে এবং তার সন্তান মারিয়া কোরিনা মাচাদো ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মাচাদোর কাছ থেকে জানানো হয়েছে।
গুয়ানিপা পূর্বে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আট মাসেরও বেশি সময় জেল খাটে ছিলেন। তিনি ৮ মাসের কারাবাসের পর রোববারই মুক্তি পান, তবে মুক্তির পরপরই তাকে অজানা সশস্ত্র গোষ্ঠী গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
গত মাসে মার্কিন সরকারের চাপের ফলে ভেনেজুয়েলা সরকার একটি দায়মুক্তি আইন পাস করে বহু রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি দেয়। এই আইন অনুসারে মাচাদোর ঘনিষ্ঠ মিত্র গুয়ানিপা রিলিজ পায়, তবে একই দিনে তাকে অপহরণ করা হয়।
গুয়ানিপার সন্তান রামন জানান, “আমার বাবা ফের অপহৃত হয়েছেন। তিনি যে জীবিত আছেন, শিগগির তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।” তিনি দ্রুত তার নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের নিশ্চিতকরণ চেয়েছেন।
অপহরণ ঘটনার পর ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সরকারী সূত্রে এই ঘটনার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা তদন্তের ঘোষণা করা হয়নি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও গুয়ানিপার মুক্তি দাবি করে তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “চারটি গাড়িতে করে আসা সাধারণ পোশাকের সশস্ত্র লোকজন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে,” এবং দ্রুত তার মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করেন।
গুয়ানিপা নিজে জানান, জেল থেকে ছাড় পাওয়ার পর তিনি মাচাদোর সঙ্গে সামান্য কথাবার্তা করেছেন এবং পরের দিন বিস্তারিত আলোচনার আশা করেছিলেন, তবে তা এখন অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোর জালিয়াতি-সম্পর্কিত অভিযোগের মুখে রয়েছে, যা বহু পশ্চিমা দেশের সমালোচনার কারণ। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ মাদুরোর সরকারকে বৈধ হিসেবে স্বীকার করে না।
স্থানীয় মানবাধিকার গোষ্ঠী ও সরকারবিরোধী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলা সরকারের সামাজিক নীতি ব্যবহার করে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করার অভিযোগ করে আসছে। তারা দাবি করে, রাজনৈতিক মতভেদে গ্রেফতার ও আটক করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক কারণে কাউকে আটক করে না এবং সব গ্রেফতার আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।
গুয়ানিপার অপহরণ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ঘটনা সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর উপর চাপ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনা থেকে দৃষ্টিপাত দূর করতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।



