ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সজ্জাত আলী ৯ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে দৈনিক স্টার ও প্রথম আলোয়ের অফিসে অগ্নিকাণ্ডের পর পুলিশ সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। তিনি উল্লেখ করেন, ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে দেরি হয়েছে এবং এই দেরি নিয়ে কিছুটা দায়িত্ব চাপা হয়েছে।
কমিশনারের মতে, আক্রমণটি রাতের শেষ ভাগে ঘটেছে, যখন শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে স্বাভাবিকভাবে যানজট কম থাকে। তবে ট্র্যাফিকের অস্বাভাবিক জ্যাম তাকে দ্রুত দল পাঠাতে বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, পুরো অপারেশন পুনরায় বিশ্লেষণ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯:৪৫ টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণের সময় মারা যান। একই রাতে, প্রায় ১১:৩০ টায় একটি দল প্রথম আলোয়ের অফিসে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। অর্ধরাতের পরপরই দৈনিক স্টার অফিসেও অনুরূপ আক্রমণ ঘটেছে।
আক্রমণের সময় কোনো বড় ট্র্যাফিক জ্যামের রেকর্ড পাওয়া যায়নি, কারণ রাতের সময় শহরের রাস্তাগুলো সাধারণত হালকা থাকে। তদুপরি, টেজগাঁও থানা দৈনিক স্টার অফিসের কাছাকাছি অবস্থিত, যা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
কমিশনার এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, অপারেশনাল সীমাবদ্ধতা এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দেরির মূল কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ বিভাগ এখনো প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়াবে।
দুইটি প্রধান সংবাদমাধ্যমের অফিসে অগ্নিকাণ্ডের পর সাংবাদিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজের বিস্তৃত নিন্দা প্রকাশ পায়। সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী দ্রুত তদন্তের দাবি জানায় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
ডিএমপি জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধী সনাক্তকরণের জন্য সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহ, ভিডিও রেকর্ড এবং সাক্ষী বিবৃতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ এখনো আক্রমণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সংগঠনের পেছনের গোষ্ঠী চিহ্নিত করতে ব্যস্ত। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেডি রেসপন্স টিম গঠন এবং ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, রাতের অন্ধকারে ঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময় ট্র্যাফিক জ্যামকে দেরির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও রেকর্ডে কোনো অস্বাভাবিক যানজটের প্রমাণ নেই। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



