উচ্চ আদালতের বিচারপতি নৈমা হায়দার ৫ ফেব্রুয়ারি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে ব্যক্তিগত সমস্যার উল্লেখ করে অফিস থেকে সরে গেছেন। একই দিনে তিনি চিঠিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এই পদক্ষেপটি উচ্চ আদালতে চলমান বিচারিক কার্যক্রমে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকি জানিয়েছেন যে, নৈমা হায়দার কর্তৃক জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রটি তৎক্ষণাৎ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে কোনো অবিলম্বে শূন্যতা দেখা যাবে না, কারণ অন্যান্য বিচারপতিদের দায়িত্ব সাময়িকভাবে ভাগ করা হয়েছে।
নৈমা হায়দারকে বর্তমানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। কাউন্সিলের তদন্তের সূচনা হয়েছিল যখন উচ্চ আদালতে তার কাজের কিছু দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। রেজিস্ট্রার জেনারেল উল্লেখ করেন যে, তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি এবং প্রক্রিয়াটি চলমান।
উচ্চ আদালতে মোট বারোজন বিচারপতি অক্টোবর ১৬, ২০২৪ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছিল। এই বিচ্ছিন্নতা anti-discrimination আন্দোলনের দাবির ফলে ঘটেছিল, যা বিচারিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য উচ্চ আদালতে সংস্কার চেয়েছিল। আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো বৈষম্য না থাকলে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
বিচারিক বিচ্ছিন্নতার পর থেকে উচ্চ আদালতে কাজের ভার কিছুটা কমে গিয়েছে, তবে বাকি বিচারপতিদের মধ্যে কাজের বণ্টন বাড়িয়ে চলমান মামলাগুলো সামলানো হচ্ছে। নৈমা হায়দারের পদত্যাগের ফলে এই ভারসাম্য আরও পরিবর্তিত হতে পারে, বিশেষ করে যেসব মামলায় তার বিশেষজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল।
২ ফেব্রুয়ারি, নৈমা হায়দারের পদত্যাগের আগে, উচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিচারপতি মামনুন রহমান কানাডা থেকে ব্যক্তিগত সমস্যার উল্লেখ করে পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের কারণও একই রকম, যা উচ্চ আদালতে একাধিক উচ্চপদস্থ বিচারপতির একসাথে সরে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
দুইজন বিচারপতির একসাথে পদত্যাগের ফলে উচ্চ আদালতে শূন্যতা পূরণের জন্য নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে। সরকারকে এখন দ্রুত উপযুক্ত প্রার্থীদের নির্বাচন করে পদ পূরণ করতে হবে, যাতে বিচারিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের ফলাফল নৈমা হায়দারকে পুনরায় বিচারিক দায়িত্বে ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে তার পদত্যাগের চিঠি ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছেছে, যা তার পুনর্বাসনের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সাধারণত রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ গ্রহণের পর তা প্রকাশ্য নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে নৈমা হায়দার উচ্চ আদালতের তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।
উচ্চ আদালতে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলা চলমান, যার মধ্যে মানবাধিকার, পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক বিষয়ের মামলা রয়েছে। এই মামলাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য বিচারিক কাঠামোর পুনর্গঠন প্রয়োজন হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, উচ্চ আদালতে একাধিক বিচারপতির সরে যাওয়া বিচারিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি নতুন রূপান্তরের সুযোগও হতে পারে, যেখানে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত বিচারিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে।
সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, উচ্চ আদালতে শূন্যতা পূরণের জন্য উপযুক্ত প্রার্থীদের দ্রুত নির্বাচন করা এবং তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রেখে বিচারিক নৈতিকতা নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, নৈমা হায়দার ও মামনুন রহমানের পদত্যাগ উচ্চ আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিবর্তনগুলো বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



