ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ এমডি সাজ্জাত আলি আজ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের জন্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি চিহ্নিত করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পূর্বে নেওয়া প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে।
কমিশনারের মতে, বর্তমান সময়ে ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সাধারণের তুলনায় উন্নত অবস্থায় রয়েছে। এই উন্নতি মূলত নির্বাচনী সময়ে প্রয়োগ করা ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও তদারকি ব্যবস্থার ফলাফল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিস্তৃত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা এবং বিশেষায়িত দল গঠন। এসব ব্যবস্থা ভোটগ্রহণকে মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গৃহীত।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ২,১৩১টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোকে ভোটার উপস্থিতি, অবস্থান এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণির জন্য নির্ধারিত পুলিশ কর্মীর সংখ্যা ভিন্ন, যা নিরাপত্তা চাহিদা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে।
প্রথম শ্রেণি, অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত ১,৬১৪টি কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে চারজন পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হবে। এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত তদারকি নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয় শ্রেণি, সাধারণ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫১৭টি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, যা ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
তৃতীয় শ্রেণি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত ৩৭টি কেন্দ্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে সাতজন করে পুলিশ কর্মী উপস্থিত থাকবে, যাতে সম্ভাব্য হুমকি বা অশান্তি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মোবাইল ও স্ট্রাইকিং দলগুলো নির্বাচনী দিন জুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় থাকবে। এই দলগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত, এবং ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি-ওয়র্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যা ভোটগ্রহণের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং কোনো অনিয়ম ঘটলে তা রেকর্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হবে। কমিশনারের শেষ মন্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রযুক্তিগত ও মানবিক ব্যবস্থা একত্রে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।



