বাংলাদেশ ব্যাংক জানুয়ারি‑জুন ২০২৬ সময়কালে স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (SDF) হার ৮ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশে কমিয়ে প্রাইভেট সেক্টরের ঋণবৃদ্ধি লক্ষ্য বাড়িয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অতিরিক্ত তরলতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা হওয়া রোধ করে interbank লেনদেন বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ত্বরান্বিত করা উদ্দেশ্য।
সাথে সঙ্গে, নীতি হার এবং স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (SLF) হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় তরলতা ব্যবস্থাপনা, interbank বাজারের লেনদেনের গভীরতা এবং প্রাইভেট সেক্টরে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে এই নীতি সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রাইভেট সেক্টরের ক্রেডিট প্রবাহ ডিসেম্বর মাসে মাত্র ৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কমপক্ষে চার বছর পর সর্বনিম্ন স্তর। এই ধীরগতি মূলত সরকারি সেক্টরের ঋণ চাহিদা বাড়ার ফলে প্রাইভেট সেক্টরের জন্য তহবিলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে; ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সরকারী নেট ক্রেডিট ৩২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগে সতর্কতা বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নীতি দিকনির্দেশের সম্ভাব্য পরিবর্তন অর্থনৈতিক পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ব্যাংকিং সেক্টরে চাপ বাড়ছে, নন‑পারফরমিং লোন (NPL) বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকগুলো সতর্কভাবে ঋণ প্রদান করছে। এই প্রবণতা প্রাইভেট সেক্টরের সম্প্রসারণকে আরও সীমাবদ্ধ করেছে।
গ্লোবাল অর্থনৈতিক পরিবেশও ঝুঁকিপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের ধীরগতি, বাণিজ্য বাধা বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা রপ্তানি চাহিদা ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিপোজিট বৃদ্ধির ধারাবাহিক পুনরুদ্ধার প্রত্যাশা করা হচ্ছে; ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ডিপোজিট বৃদ্ধি ১২‑১৪ শতাংশের মধ্যে পৌঁছাবে বলে অনুমান। এই ভিত্তিতে প্রাইভেট সেক্টরের ক্রেডিট প্রবৃদ্ধি জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৮ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে।
অগ্রাধিকারপূর্ণ সেক্টর যেমন কৃষি এবং কটেজ, মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (CMSME) এর জন্য সাধারণ ঋণ প্রভিশনিং শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এই নীতি পরিবর্তন ব্যাংকগুলোকে এই ক্ষেত্রগুলোতে ঋণ প্রদান বাড়াতে উৎসাহিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, প্রাইভেট সেক্টরের ঋণ প্রবাহ বাড়াতে এবং উৎপাদনশীল খাতে তহবিলের প্রবেশ নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, ডিপোজিট হার কমিয়ে এবং প্রভিশনিং শর্ত শিথিল করে ব্যাংকিং সিস্টেমের তরলতা বাড়ানো এবং প্রাইভেট সেক্টরের ঋণবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা লক্ষ্য। তবে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যাংকিং সেক্টরের চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি ভবিষ্যৎ ঋণ প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে।



