ইলেকশন কমিশন (ইসি) ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশনা বিভাগীয় কমিশনার, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
চিঠিটি ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়‑১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে প্রকাশিত হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় কোনো ব্যক্তি, ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না, যদি না তিনি চিঠিতে উল্লেখিত বিশেষ অনুমোদিত ব্যক্তি হন।
বিশেষ অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত অথবা সাধারণ আনসার সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্যকেও মোবাইল ফোন বহন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো ছাড়া অন্য সকলের জন্য মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ থাকবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তারা স্থানীয় পর্যায়ে এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে, এবং কোনো লঙ্ঘন ঘটলে তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করে।
নির্দেশনা প্রকাশের পর থেকে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মিডিয়া কর্মী উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, যদি মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা হয়, তবে তারা ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহে বাধা পাবেন এবং ভোটের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে যাবে। কিছু সাংবাদিকের মতে, এই পদক্ষেপটি স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে ইসির নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলার সময় জানানো হয় যে, চিঠির ভাষা দেখে বোঝা যায় যে, সাংবাদিকরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগ করে স্পষ্টতা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং যদি নিশ্চিত হয় যে সাংবাদিকদের ওপর এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্টিকরণ জারি করা হবে। অন্যদিকে, যদি সাংবাদিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে ইসির সঙ্গে অতিরিক্ত আলোচনা করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময়সূচি সকাল ৭:৩০ টা থেকে বিকেল ৪:৩০ টা পর্যন্ত নির্ধারিত। এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি। ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ইসির এই নতুন নিয়ম প্রয়োগের লক্ষ্য স্পষ্ট করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে। যদি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত হয়, তবে ভোটের ফলাফল ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনসাধারণের ধারণা প্রভাবিত হতে পারে। তাই ইসির উচিত হবে এই নিয়মের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা প্রদান করা, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত থাকে।
ইসির এই পদক্ষেপের পরবর্তী ধাপ হবে জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা অনুসারে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে লঙ্ঘন রোধ করা। একই সঙ্গে, নির্বাচন কমিশনারের স্পষ্টিকরণ ও অতিরিক্ত আলোচনা ফলাফল কী হবে, তা আগামী দিনগুলোতে নজরে থাকবে, কারণ এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মিডিয়ার স্বাধীনতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



