ড. মিজানুর রহমান আজহারী, জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক, ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার তার যাচাইকৃত ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের অবিচলতা অপরিহার্য।
ড. আজহারী বলেন, দেশের ১৮ কোটি নাগরিক একটি সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য ইলেকশন প্রত্যাশা করছেন এবং এই প্রত্যাশা পূরণে সরকার, সামরিক বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতহীন আচরণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সকল সরকারি ও অ-সরকারি সংস্থাকে আহ্বান জানান যে, তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা উচিত।
বক্তা উল্লেখ করেন, আন্তরিক সদিচ্ছা ও সঠিক তৎপরতা বাংলাদেশকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে জাতির সূর্য সন্তানদের তালিকায় এই কর্মকর্তাদের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি সকল কর্তৃপক্ষকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার এবং কোনো পক্ষপাত না দেখানোর প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
ড. আজহারী ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে জনগণ তাদের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব ছাত্র-জনতার হাতে ফিরে এসেছে এবং তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিনি নির্বাচনকে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক গোষ্ঠী ও নাগরিককে আহ্বান জানান যে, নির্বাচনের সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে একসাথে কাজ করা উচিত।
বক্তা ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতিগত ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, সকল শ্রেণি‑পেশার মানুষের সমন্বয়ে দেশকে একত্রিত হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে না হলে নির্বাচনের ফলাফল দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ড. আজহারী বলেন, দেড় দশক পর আবারও সাধারণ মানুষকে তুলনামূলকভাবে ভালো নেতা বাছাই করার সুযোগ মিলেছে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, নির্বাচনের চারপাশে গুজব, উসকানি এবং দেশি‑বিদেশি ষড়যন্ত্রের বাতাবরণ তৈরি হতে পারে, যা প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি সকলকে আহ্বান করেন যে, প্রতিটি বিষয়কে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমাজে মতভিন্নতা স্বাভাবিক, তবে তা প্রতিহিংসা বা রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ না নেয়া উচিত।
বক্তা স্মরণ করিয়ে দেন, এই দেশ সবারই, তাই দেশের সার্বিক শান্তি‑শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বও আমাদেরই। তিনি সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিকে অনুরোধ করেন যে, দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করে পরিষ্কার ও গঠনমূলক আলোচনায় যুক্ত হোন।
ড. আজহারী ট্যাগিং ও ব্যাশিং মুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতির দাবি করেন এবং চেতনা বিক্রি ও দোষারোপের রাজনীতির অবসান চান। তিনি বলেন, নতুনত্বপূর্ণ এবং ইতিবাচক ধারায় রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনা সকলের দায়িত্ব।
শেষে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যে, প্রতিটি আসনে জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানের প্রতিযোগিতা করুন, প্রতিপক্ষকে দোষারোপ না করে নিজের দায়িত্ব পূরণে মনোযোগ দিন। এভাবে জাতি বিভক্ত না হয়ে সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হতে পারবে।



