ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরোধী দল জাস্টিস ফার্স্টের নেতা জুয়ান পাব্লো গুইনিপা, কারাবাস থেকে মুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে, ক্যারাকাসের লস চোরোস পাড়া থেকে অপহৃত হয়েছেন। ঘটনাটি সোমবার সকালে প্রকাশিত হয় এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বিপক্ষের প্রধান মুখপাত্র মারিয়া কোরিনা মাচাডো, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী, সামাজিক মাধ্যমে লিখে জানিয়েছেন যে গুইনিপা হঠাৎ চারটি গাড়িতে ঘেরা, সশস্ত্র ও সিভিল পোশাক পরা লোকদের দ্বারা জোরপূর্বক নেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অপহরণকারী দলটি অস্ত্রধারী এবং গুইনিপার সঙ্গে থাকা সঙ্গীদের দিকে হুমকি জানিয়ে গাড়িতে চেপে নিয়ে যায়।
গুইনিপা, যিনি একসময় জাতীয় পরিষদের উপ-সভাপতি ছিলেন, আট মাসের কারাবাসের পর সাম্প্রতিক মুক্তি পেয়েছিলেন। তার মুক্তি ভেনেজুয়েলা সরকারের পূর্ব প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক বন্দীদের বৃহৎ মুক্তির অংশ হিসেবে ঘটেছিল।
জাস্টিস ফার্স্টের নেতৃত্বে গুইনিপা কেন্দ্রীয়-ডানপন্থী পার্টির নেতা, ২০১৭ সালে জুলিয়া অঞ্চলের গভর্নর নির্বাচিত হলেও মাদুরোর জাতীয় সংবিধানিক সমাবেশে শপথ না করার কারণে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা পেয়েছিলেন। এরপর তিনি সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে লুকিয়ে ছিলেন, বিশেষত ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার পর।
পার্টি গুইনিপার অপহরণকে “তানাশাহীর দমনমূলক শক্তি”র কাজ বলে অভিযুক্ত করেছে এবং গুইনিপা গাড়িতে ওঠার আগে তার সঙ্গীদের উপর অস্ত্র নির্দেশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে। জাস্টিস ফার্স্টের প্রকাশ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ, জাতীয় পরিষদের স্পিকার জর্জ রড্রিগেজ এবং অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী দিওসাদো ক্যাবেলোকে গুইনিপার নিরাপত্তা হুমকির জন্য দায়ী ধরা হয়েছে।
পার্টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গুইনিপার “তাৎক্ষণিক মুক্তি” দাবি করার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরোধী দমন নীতি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, গুইনিপার জীবন রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল করা প্রয়োজন।
গুইনিপার সন্তান রামন, তার মুক্তি উদযাপন করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, “আমাদের পুরো পরিবার শীঘ্রই আবার আলিঙ্গন করতে পারবে।” এই বার্তা গুইনিপার মুক্তির পরপরই প্রকাশিত হয়, যা পরিবারিক আনন্দের মুহূর্তকে প্রকাশ করে।
ফোরো পেনাল, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের রাজনৈতিক বন্দীদের সহায়তা করে, জানিয়েছে যে রবিবারের দিন অন্তত ত্রিশজন রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। গুইনিপা এই সংখ্যার মধ্যে অন্যতম, যা দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।
গুইনিপার বর্তমান অবস্থান অনিশ্চিত, কারণ তিনি এখনও সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং লুকিয়ে আছেন। তার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষত তার পার্টি এবং সমর্থকরা সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করছেন।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, গুইনিপার পুনরায় অপহরণ ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরোধী গোষ্ঠীর উপর চাপ বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। এই ঘটনা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতকে তীব্র করে তুলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে অধিকতর উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।



