রুমিন ফারহানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের কিছু অংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, রবিবার বিকাল ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ গণমিছিলের সময় উপস্থিত ভোটার ও পথচারীদের উড়ন্ত চুমু দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ প্রচার সমাপ্ত করেন।
মিছিলটি বিকেল পাঁচটায় সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া থেকে তার সমর্থকদের উদ্যোগে শুরু হয় এবং প্রধান সড়কগুলোতে ঘুরে ফিরে উপজেলা সদর দফতরের দিকে অগ্রসর হয়।
মিছিলের পথে হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন; গাড়ি, রিকশা ও পায়ে হাঁটা নাগরিকরা একত্রে রাস্তায় জমায়েত হয়ে উল্লাসের ঢেউ তুলেছেন।
মিছিলের মাঝখানে রুমিন ফারহানা হাতে হাত নেড়ে, উড়ন্ত চুমু দিয়ে উপস্থিতদের সঙ্গে আন্তরিকতা প্রকাশ করেন। তার এই অঙ্গভঙ্গি ভোটারদের মধ্যে উষ্ণ সাড়া জাগিয়ে তুলেছে।
ইলেকশন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ার আগে এই মিছিলটি তার শেষ গণমিছিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, ফলে আর কোনো জনসমাবেশের মাধ্যমে ভোটারকে সরাসরি সম্বোধন করা যাবে না।
ফারহানা পূর্বে বিএনপি থেকে মনোনয়নের প্রত্যাশা করলেও দলীয় অনুমোদন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করেছে।
বিএনপি নেতারা রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থীতাকে পার্টির শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় স্তরে তার সমর্থকরা তার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বর্তমানে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। রুমিন ফারহানার শেষ মিছিলের সময় তার উড়ন্ত চুমু ভোটারদের মধ্যে তার ব্যক্তিত্বের প্রতি ইতিবাচক ধারণা জোরদার করতে পারে।
বিএনপি সমর্থকরা রুমিন ফারহানার এই অঙ্গভঙ্গিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখলেও, তার সমর্থকরা এটিকে তার আন্তরিকতা ও সরাসরি সংযোগের প্রকাশ বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
পরবর্তী সপ্তাহে নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে সব প্রার্থীর শেষ প্রচার চালু থাকবে, এবং ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে এই ধরনের জনসমাবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হবে।
রুমিন ফারহানা শেষ গণমিছিলের মাধ্যমে তার প্রচারণা সমাপ্ত করে, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের শেষ সুযোগটি ব্যবহার করেছেন; এখন তিনি ভোটারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



