লাহোরে রবিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনায় তিনটি সংস্থা নিজেদের অবস্থান ও সমাধান প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইসিসি‑এর আর্থিক ক্ষতি কমানো এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অভিযোগের সমাধান খুঁজে বের করা।
বৈঠকে আইসিসি, পিসিবি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সূত্র অনুযায়ী, সভা পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং উভয় পক্ষের মতবিনিময় দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
পূর্বে আইসিসি, ভারতকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। এরপর পাকিস্তানও ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, যার ফলে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি প্রায় ৬১৫০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এই আর্থিক চাপই বৈঠকের পটভূমি তৈরি করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উত্থাপিত অভিযোগ ও অতীতের অবিচার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দাবি ছিল আইসিসি‑এর সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ও খেলা‑সংক্রান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এই অভিযোগের সমাধানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।
পিসিবি বৈঠকে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে, দুই পক্ষের যোগাযোগ সহজ করে এবং আলোচনার সুষ্ঠু প্রবাহ নিশ্চিত করে। পিসিবি এই ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলার কাজটি ত্বরান্বিত করে।
বৈঠকের শেষে একটি ফর্মুলা তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে তিনটি সুবিধা প্রদান করবে। এই সুবিধাগুলি মূলত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, বিশ্বকাপের আয়‑বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের অংশগ্রহণের শর্ত নির্ধারণ করে।
প্রথম সুবিধা হিসেবে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে বিশ্বকাপে না খেলায় সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে। দ্বিতীয়টি হল, বিশ্বকাপের লভ্যাংশের একটি অংশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাবে, যা পূর্বে বাদ পড়ার ফলে হারিয়ে যাওয়া আয় পূরণে সহায়তা করবে। তৃতীয় সুবিধা হিসেবে, ভবিষ্যতে ভারতভূমিতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হলে বাংলাদেশকে হাইব্রিড মডেলে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, যা ঐতিহ্যবাহী ও নতুন ফরম্যাটের সমন্বয় ঘটাবে।
সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর, আইসিসি সোমবার দুপুরে আবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা করেছে। এই সংযোগের মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে আইসিসি সম্ভাব্য ৬১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি কমাতে পারবে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক অবস্থা স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি হাইব্রিড মডেল ভবিষ্যতে ভারতভূমিতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে পুনরায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



