পশ্চিম ভারতের সিভিল কর্মী ফেডারেশন (FWICE) এই সপ্তাহে নেটফ্লিক্সের নতুন চলচ্চিত্র ঘূস্কর পাণ্ডত শিরোনাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কঠোর পদক্ষেপের সতর্কতা জারি করেছে।
ফিল্মের ঘোষণা ও টিজার প্রকাশের পরই শিরোনামটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। বহু দর্শক ও সামাজিক সংগঠন শিরোনামকে আপত্তিকর ও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতি অবমাননাকর বলে সমালোচনা করে।
‘ঘূস্কর’ শব্দটি হিন্দিতে ঘুষ গ্রহণকারী ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, আর ‘পাণ্ডত’ শব্দটি সাধারণত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত। সমালোচকরা যুক্তি দেন যে এই দু’টি শব্দের সমন্বয় গোষ্ঠীগত স্টেরিওটাইপকে শক্তিশালী করে এবং সংবেদনশীলতা আঘাত করতে পারে।
FWICE-র প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এ ধরনের শিরোনাম সংবেদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে, ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে এবং সামাজিক সাদৃশ্যকে ব্যাহত করতে পারে’। চিঠিতে সকল প্রযোজক সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, উস্কানিমূলক শিরোনাম নিবন্ধন বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুক, যাতে জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
ফেডারেশন চলচ্চিত্র শিল্পকে প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে, যে কোনো ধরনের অবমাননাকর বা বিভাজনমূলক বিষয়বস্তু থেকে দূরে থাকা উচিত। শিল্পের সামাজিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে তারা এই ধরনের শিরোনামকে অনুপযুক্ত বলে গণ্য করেছে।
শিরোনাম প্রত্যাহার না হলে FWICE তার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে চলচ্চিত্রের উৎপাদন সংস্থার সঙ্গে কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে পারে। এর ফলে একই প্রযোজকের ভবিষ্যৎ প্রকল্পে কাজ করা টেকনিশিয়ান ও ক্রুদের উপর বয়কটের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিতর্কটি আইনি পরিসরে পৌঁছেছে। লখনউতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত সংবেদনশীলতা আঘাত’ের অভিযোগে FIR দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লি হাই কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যেখানে শিরোনামকে ‘কমিউনাল আপত্তিকর’ বলে মুক্তি বন্ধের অনুরোধ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্বহিন্দু পারিষদ (VHP) শিরোনামকে ‘অপমানজনক’ বলে সমালোচনা করেছে। অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন ও নেতৃবৃন্দও সমানভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে, শিরোনামটি সামাজিক সাদৃশ্যের ক্ষতি করতে পারে বলে উল্লেখ করেছে।
এইসব চাপে চলচ্চিত্রের মুক্তি পরিকল্পনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রযোজক দল এখন শিরোনাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, তবে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা ও বাজারের প্রত্যাশা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে।
শিল্পের বিভিন্ন গোষ্ঠী এই ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। FWICE-র দাবি পূরণ না হলে সম্ভাব্য বয়কট ও আইনি বাধা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে, ফলে শিরোনাম সংশোধনের দিকে ঝোঁক বাড়তে পারে।



