আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তান সরকারের টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারত‑বিপক্ষীয় ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের পর অবস্থা পুনর্বিবেচনা করতে রোববার রাতের বৈঠকে তিনটি শর্ত উপস্থাপন করেছে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পাকিস্তানে গিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পি.সিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামের সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আলোচনা করেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের বয়কট থেকে সরে আসার সম্ভাবনা যাচাই করা এবং শর্তাবলীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
বৈঠকে প্রথম শর্ত হিসেবে পাকিস্তান আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি চেয়েছে। বর্তমান সময়ে পাকিস্তান যে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থ পায়, তা আরও বেশি হতে হবে বলে পি.সিবি প্রতিনিধিরা জোর দেন। এই আর্থিক বৃদ্ধি পাকিস্তানের ক্রিকেট উন্নয়ন ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিতীয় শর্তটি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের পুনরায় সূচনা নিয়ে। ২০১৩ সালের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হয়নি, যা মূলত ভারতের অনাগ্রহের ফলে ঘটেছে। পি.সিবি চায় যে দুই দেশ আবার একে অপরের সঙ্গে সিরিজে মুখোমুখি হয়ে ক্রিকেটের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হোক। এই শর্তটি উভয় দেশের ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হয়।
তৃতীয় শর্তটি আচরণগত বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ এশিয়া কাপের সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেনি, যা পাকিস্তানের দৃষ্টিতে অনুপযুক্ত আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পি.সিবি এই ধরনের শিষ্টাচারিক আচরণ পুনরায় নিশ্চিত করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ম্যাচে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে। এই শর্তটি দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু শর্তও উত্থাপিত হয়েছে। আইসিসি কর্মকর্তারা পি.সিবি-কে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা প্রয়োজন, যদিও বিস্তারিত শর্তাবলী প্রকাশিত হয়নি। এই বিষয়টি আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে আর্থিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তান সরকার ও পি.সিবি শর্তগুলো মেনে চলা হলে ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের বয়কট থেকে সরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে পি.সিবি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ নির্ধারিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারের পর এক থেকে দুই দিনের মধ্যে শর্তগুলোর প্রয়োগযোগ্যতা ও ম্যাচের সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা পাওয়া যাবে।
আইসিসি-পি.সিবি বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচের বিষয়টি পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। যদি শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক মুখোমুখি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। অন্যথায় বয়কটের অবস্থান বজায় থাকবে এবং টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি ও পি.সিবি রোববার রাতের দীর্ঘ বৈঠকে আর্থিক, সিরিজ পুনরায় চালু এবং শিষ্টাচারিক আচরণ সংক্রান্ত তিনটি শর্ত নির্ধারণ করেছে। এই শর্তগুলো পূরণ হলে ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচের পুনরায় আলোচনার দরজা খুলে যাবে, আর না হলে বর্তমান বয়কটের অবস্থান বজায় থাকবে। ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের জন্য পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



