মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, শি জিনপিং ২০২৬ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে সফর করতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, শি যখন হোয়াইট হাউসে আসবেন, তখন দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্পের মতে, শি জিনপিংয়ের এই সফর চীন ও মার্কিন সরকারের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, দু’টি সর্বশক্তিমান দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে, গত বুধবার দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘ ফোনালাপ হয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি তাইওয়ান সংক্রান্ত মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ফোনালাপে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের গুরুত্ব স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার পথ খুঁজে বের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি এই ফোনালাপের কিছু বিষয় তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং তাইওয়ানকে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে শি একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সমস্যাগুলোকে বন্ধুত্বপূর্ণ উপায়ে সমাধান করার আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, এবং ধাপে ধাপে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলে দুই দেশকে একসাথে সঠিক পথ অনুসরণ করতে হবে বলে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে, মার্কিন সরকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বেইজিং এই প্রস্তাবে আপাতত অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেনি, ফলে এই নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার অগ্রগতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি চীন সরকারকে সফর করার কথা ঘোষণা করেছেন। শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর তার চীনা সফরের কয়েক মাস পরে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও ঘনিষ্ঠ করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা চীন ও মার্কিন সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে এখনও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে রয়ে যাবে।
এই পরিস্থিতিতে, উভয় দেশের সরকারই পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ট্রাম্পের চীন সফর উভয়ই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশের অবস্থানকে পুনর্গঠন করতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের নীতি ও কূটনৈতিক কৌশল সমন্বয় করা প্রয়োজন।



