ইসরায়েলি রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হেরজগ গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে শোকের ফুলমালা ও জেরুজালেম থেকে আনা দুইটি পাথর অর্পণ করেন। এই অনুষ্ঠানটি ডিসেম্বর মাসে হানুক্কা উৎসবের সময় সংঘটিত গুলিবিদ্ধ হামলার স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়। হেরজগের উপস্থিতি চার দিনের ভ্রমণের প্রথম পদক্ষেপ, যেখানে তিনি কানবেরা ও মেলবোর্নে সরকারি সফরও করবেন।
হেরজগ শোকস্মৃতির সময় উল্লেখ করেন যে, একজন ইহুদি আহত হলে সমগ্র ইহুদি সম্প্রদায়ের হৃদয় ব্যথা অনুভব করে, এবং তিনি শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা ও সমর্থন দিতে উপস্থিত। তার এই বক্তব্যে শোকের গভীরতা ও সমবেদনা প্রকাশ পায়।
বন্ডি বিচে গুলিবিদ্ধ হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক মেয়েও অন্তর্ভুক্ত। এই হামলা হানুক্কা উদযাপনকারী ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর লক্ষ্য করে করা হয়েছিল এবং অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তকর সন্ত্রাসী আক্রমণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
হেরজগের সফরের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা পুরো সফরকালীন এলাকায় অতিরিক্ত তদারকি চালু করেছে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে।
ভ্রমণের পরবর্তী দিনগুলোতে হেরজগ কানবেরায় অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপতি অ্যান্থনি আলবেনিজের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং মেলবোর্নে ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই সফরের লক্ষ্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করা এবং সম্প্রদায়ের শোককে সমর্থন প্রদান করা।
অস্ট্রেলিয়ার জ্যেষ্ঠ ইহুদি নেতারা হেরজগের সফরকে শোকাহত পরিবার ও বেঁচে থাকা বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সান্ত্বনার সুযোগ বলে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি শোকের সময় সম্প্রদায়ের মনোবল বাড়াবে।
অন্যদিকে, কিছু সমালোচক হেরজগের আমন্ত্রণকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, কারণ তিনি গাজা অঞ্চলে সংঘটিত মানবিক সংকটের সময় ইসরায়েলি নীতি সমর্থন করার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। এই সমালোচকরা দাবি করেন যে, তিনি গাজায় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এই সফরে অংশ নেওয়া উচিত নয়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ সফরকে সামাজিক সংহতি ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বন্ডি হামলার পর এই ধরনের সফর দেশকে একত্রিত করে এবং শোকের পরেও একসাথে এগিয়ে যাওয়ার মনোভাব গড়ে তুলবে।
বন্ডি হামলার পর দেশব্যাপী প্রতিবাদ প্রত্যাশিত, বিশেষ করে সিডনির কেন্দ্রীয় এলাকায় সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় ৫,০০০ অংশগ্রহণকারীসহ একটি বড় প্রতিবাদে অংশ নেওয়া হবে। এই প্রতিবাদে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের প্রয়োগ করা প্রতিবাদ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস সরকার হেরজগের সফরের সময় ‘মেজর ইভেন্ট’ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পুলিশকে নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশ বন্ধ, ব্যক্তিগত অনুসন্ধান এবং অমান্যকারীদের উপর সর্বোচ্চ $৫,৫০০ জরিমানা আরোপের অধিকার দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, দাবি করে যে এই ক্ষমতা অতিরিক্ত এবং প্রকাশ্য শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে।
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ইহুদি সংস্থা এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অফ অস্ট্রেলিয়ান জিউরি’র সহ-চেয়ার এক্সিকিউটিভ অ্যালেক্স রিভচিন হেরজগের সফরকে উষ্ণ স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শোকের পরিবার ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
সফরের শেষ পর্যায়ে হেরজগের উপস্থিতি অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। শোকের সময় আন্তর্জাতিক নেতার উপস্থিতি দেশীয় সংহতি বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে গাজা সংকটের ওপর আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



