হংকংয়ের একটি আদালত সোমবার জিমি লেইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে, যা তার জাতীয় নিরাপত্তা মামলায় শেষ রায়। ৭৮ বছর বয়সী মিডিয়া উদ্যোক্তা, যিনি আপেল ডেইলি পত্রিকাটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তাকে বিদেশি সহায়তার অভিযোগে দুইটি এবং সেডিশিয়াস প্রকাশনার অভিযোগে একটি দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
বিচারকরা লেইয়ের অপরাধের গুরুতরতা ও প্রভাব বিবেচনা করে মোট শাস্তি ২০ বছর নির্ধারণ করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইতিমধ্যে লেই ২০২০ সাল থেকে কারাগারে আছেন, তাই নতুন শাস্তির দুই বছর পূর্বের শাস্তির সঙ্গে মিলবে, ফলে তিনি অতিরিক্ত ১৮ বছর কারাদণ্ডে থাকবে।
শুনানির সময় লেই নীরবে বসে ছিলেন, এবং শাস্তি ঘোষণার পর তিনি আদালতের গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের, যার মধ্যে তার স্ত্রী তেরেসা, প্রাক্তন হংকং বিশপ কার্ডিনাল জোসেফ জেন এবং আপেল ডেইলির প্রাক্তন সাংবাদিকরা ছিলেন, এক শান্তিপূর্ণ হাত নেড়ে বিদায় জানালেন।
এই রায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে, যারা হংকংয়ের সংবাদস্বাধীনতার অবনতি হিসেবে এটিকে দেখছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টার্মার গত মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে সাক্ষাৎকারে লেইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেন, উল্লেখ করে যে আলোচনা শালীনভাবে পরিচালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পও লেইয়ের মুক্তির পক্ষে আহ্বান জানিয়েছেন, যদিও তিনি ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে লেইয়ের অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা Committee to Protect Journalists রায়ের আগে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, লেইয়ের বিচার শুরু থেকেই একটি নাটকীয় প্রদর্শনী ছিল এবং এটি হংকংয়ের এমন আইনগুলোর প্রতি অবহেলা প্রকাশ করে, যেগুলো মূলত সংবাদস্বাধীনতা রক্ষার জন্য গৃহীত হয়েছে।
Reporters Without Borders রায়কে হংকংয়ের সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, যা কেবল লেইয়ের ব্যক্তিগত দণ্ড নয়, পুরো সাংবাদিক সম্প্রদায়ের উপর প্রভাব ফেলবে।
হংকংয়ের আইনগত ব্যবস্থা অনুযায়ী, লেইয়ের দুইটি বিদেশি সহায়তার অভিযোগ এবং একটি সেডিশিয়াস প্রকাশনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা ২০২০ সালে তার গ্রেফতার থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ কারাবাসের ধারাবাহিকতা।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক লেইয়ের শাস্তিকে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন ও মৌলিক অধিকার হ্রাসের একটি চিহ্ন হিসেবে দেখছেন, এবং ভবিষ্যতে আরও সাংবাদিকদের উপর একই রকম আইনি চাপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
হংকং সরকার এখনও রায়ের বৈধতা ও নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে, এবং লেইয়ের অতিরিক্ত শাস্তি সম্পর্কে কোনো আপিলের ইঙ্গিত দেয়নি।
এই রায়ের পরবর্তী ধাপ হিসেবে লেইয়ের আইনজীবীরা আপিলের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারেন, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হংকংয়ের বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়ে উঠবে।



