রাজশাহীর বিভিন্ন বাজারে রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে লেবুর দাম দ্রুত বাড়ছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে একই গুণের লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৫ টাকার বদলে ৬০ টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাজারের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মৌসুমের পরিবর্তনকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
রাজশাহীর মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে রোববার দুপুরে পর্যবেক্ষণ করা যায় যে, এক হালিতে (আধা কিলোগ্রাম) ছোট লেবু ৩০ টাকা, মাঝারি আকারেরটি ৪০ টাকা, বড় লেবু ৫০ টাকা এবং রসালো ও বড় লেবু ৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। একই বাজারে এক সপ্তাহ আগে একই আকারের লেবু ১৫-২০ টাকায় পাওয়া যেত। এই তীব্র মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে; অনেকেই দাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে কেনাকাটা বন্ধ করে দিয়েছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগের মূল বিষয় হল রমজান মাসের আগমনের কারণে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে বিক্রেতারা দাবি করছেন যে লেবুর মৌসুম না থাকায় ফলের সরবরাহ কমে গেছে, ফলে দাম স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। বাজারে উপস্থিত কয়েকজন বিক্রেতা স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী জেলার (টাঙ্গাইল, মধুপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, সিলেট) থেকে লেবু সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। তারা জানান যে, প্রতি লেবুর পাইকারি দাম ১০ থেকে ১২ টাকা, যা বর্তমান বিক্রয় মূল্যের তুলনায় অনেক কম। তাই তারা বিক্রয় মূল্যে হ্রাস করতে পারছেন না।
একজন ক্রেতা, রায়হান হোসেন, লেবুর দামের দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, “এক সপ্তাহে দাম দ্বিগুণ হয়ে গেল, গাছে ফল কম, তবে এত দাম কেন?” অন্য একজন ক্রেতা, মোসা নুরজাহান, দুইটি লেবু ২০ টাকায় কিনে রমজান মাসে ফলের ঘাটতি বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন। একই সময়ে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে দাম নিয়ে তর্ক দেখা যায়; বিক্রেতা এক টাকাও কম রাখতে পারছেন না, আর ক্রেতা এটিকে অন্যায় বলে সমালোচনা করেন।
মো. মুন্না, যিনি আট বছর ধরে মাস্টারপাড়া বাজারে লেবুর ব্যবসা করছেন, বলেন, “রমজান এলে শুধু বিক্রেতাদের দোষারোপ করা হয়, কিন্তু প্রকৃত কারণ হল গাছে ফল না থাকা। আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে লেবু আনি, তবে পাইকারি দামের সীমা কম, তাই বিক্রয়মূল্য বাড়তে বাধ্য হচ্ছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গাছের ফুল ফোটলেও ফল না হওয়ায় সরবরাহের ঘাটতি অব্যাহত থাকবে।
বাজারের এই পরিস্থিতি স্থানীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। লেবুর দাম বাড়ার ফলে রমজান ভোজনের জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের খরচও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষত রমজানে লেবু ব্যবহার করে শীতল পানীয় ও খাবার প্রস্তুত করা সাধারণ, তাই সরবরাহের ঘাটতি ও উচ্চ দাম ভোক্তাদের বিকল্প অনুসন্ধানে বাধ্য করতে পারে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং গাছের ফল না আসা পর্যন্ত লেবুর দাম উচ্চ স্তরে থাকবে। যদি রমজান শেষে সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হয়, তবে দাম আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিক্রেতারা যদি অন্য জেলা থেকে বড় পরিমাণে লেবু আনা চালিয়ে যায়, তবে বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে, তবে তা পাইকারি দামের ওপর নির্ভরশীল।
সারসংক্ষেপে, রাজশাহীর লেবুর দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরবরাহের ঘাটতি ও মৌসুমের পরিবর্তনের ফলে ঘটেছে। ক্রেতাদের অসন্তোষ বাড়ছে, তবে বিক্রেতারা পাইকারি দামের সীমা ও সরবরাহের সমস্যার কারণে দাম কমাতে পারছেন না। রমজান মাসে এই প্রবণতা বজায় থাকলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ভবিষ্যতে সরবরাহ পুনরুদ্ধার ও মৌসুমের পরিবর্তন মূল দামের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে।



