বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা করেছে যে দেশের সব মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এক ও অর্ধ মাসের অবিচ্ছিন্ন ছুটি পাবে। এই বিশাল বিরতি রমজান, ঈদ‑উল‑ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় দেখা যায়, ছুটির সময়কাল ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৩‑১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায়, শিক্ষার্থীরা কার্যত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই ছুটিতে থাকবে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৯ মার্চ থেকে মাদ্রাসার নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এভাবে এই শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ অবিচ্ছিন্ন ছুটির সুবিধা পাবে।
এর পাশাপাশি, ২৪ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ঈদ‑উল‑আযহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য ১৫ দিনের দ্বিতীয় দীর্ঘ ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। মোট মিলিয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭০ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় পাঁচ দিন কম।
সাধারণ স্কুল ও কলেজের ক্ষেত্রেও ফেব্রুয়ারি মাসে ধারাবাহিক পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ১১‑১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সর্বজনীন ছুটি, এরপর ১৩‑১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র‑শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি, এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
ফলস্বরূপ, সব ধরনের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১১ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের দীর্ঘ ছুটি শুরু হওয়ায় স্কুল‑কলেজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দিন বিশ্রাম পাবে।
২০ জানুয়ারি প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনটি দেশের তিনটি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং সকল বেসরকারি ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার জন্য একসাথে প্রযোজ্য হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই সময়সূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনকালীন ছুটির বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১১‑১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি থাকবে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
শিল্পক্ষেত্রের শ্রমিকদের ভোটাধিকার সহজতর করার জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শিল্পকর্মী শুক্রবার, শনিবার ও রবিবারসহ তিন দিন বিশ্রাম পাবে, আর অন্যান্য সরকারি কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত চার দিন ছুটি উপভোগ করবে।
বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ছুটির ব্যবস্থা নাগরিকদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে সহায়তা করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, দীর্ঘ বিরতির সময় শিক্ষাগত পরিকল্পনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সঠিকভাবে সাজ



