24 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনপহেলা ফালগুনে ঘরে ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত ও উপভোগের উপায়

পহেলা ফালগুনে ঘরে ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত ও উপভোগের উপায়

ঢাকায় পহেলা ফালগুনের উদযাপন এই বছরও ঘরোয়া পার্টির মাধ্যমে চালু হয়েছে। বসন্তের প্রথম দিনটি পরিবার ও বন্ধুদেরকে একত্রিত করে হালকা হাসি-খুশি ও দীর্ঘ কথোপকথনের সুযোগ দেয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধানত ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়, যা উষ্ণতা ও আনন্দের পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে। অনেকেই এই দিনটি রঙিন পোষাক ও সজীব সঙ্গীতের সঙ্গে উদযাপন করেন, তবে খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম।

পহেলা ফালগুনের ঐতিহ্য বাংলার সংস্কৃতিতে গাঢ়ভাবে প্রোথিত; এটি বসন্তের আগমনকে স্বাগত জানাতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহ্যগতভাবে মানুষ এই দিনটি নতুন পোশাক পরিধান করে, ফুলের মালা গাঁথে এবং ঘরে ঘরে মিষ্টি ও নোনতা খাবার সাজিয়ে রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহুরে পরিবারগুলো ছোট আকারের গৃহস্থালি সমাবেশের মাধ্যমে এই রীতি বজায় রেখেছে, যেখানে খাবার প্রস্তুতি ও ভাগাভাগি মূল আকর্ষণ।

বাড়িতে পহেলা ফালগুনের পার্টি সাধারণত সন্ধ্যায় শুরু হয়; অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে চা বা ফলের রস পরিবেশন করা হয়। হালকা কথোপকথনের পরে মূল খাবার টেবিলে আসে, যা প্রায়শই তিনটি প্রধান রেসিপি নিয়ে গঠিত। এই রেসিপিগুলো সহজে তৈরি করা যায় এবং স্বাদে সমৃদ্ধ, ফলে সব বয়সের মানুষই আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে পারে।

প্রথম পদটি হল ডিমের অমলেট, যা নরম ও সোনালি রঙের হয়ে উঠে। ডিম ফাটিয়ে একটি বাটিতে ফেটিয়ে নিন, তাতে লবণ, গোলমরিচ এবং সামান্য গুঁড়ো মশলা মেশান। মাঝারি তাপে একটি প্যানে এক টেবিল চামচ মাখন গলিয়ে, ডিমের মিশ্রণ ঢেলে সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। অমলেটের নিচের দিকটি সোনালি হয়ে এলে, স্প্যাটুলা দিয়ে অর্ধেক ভাঁজ করে দু’পাশে হালকা বাদামী রঙে রান্না করুন এবং তৎক্ষণাৎ প্লেটে তুলে নিন।

দ্বিতীয় পদটি কুমড়ার ফুলের ফ্রাই, যা প্রায়শই পাঁইরার মিশ্রণ দিয়ে ভরা হয়। প্রথমে পাঁইরাকে মসলা পেস্টে পেষে নিন, তাতে মাছের সস, রসুন, লবণ ও গোলমরিচ যোগ করে দুই মিনিট মাখুন। প্রতিটি কুমড়ার ফুলের মধ্যে এক চামচ পেস্ট ভরে নিন, তারপর সাদা ডিমের সাদা অংশে ডুবিয়ে আলু স্টার্চে মাখিয়ে নিন। তেলকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গরম করে, ফুলগুলোকে হালকা সোনালি না হয়ে ক্রিসপি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন এবং শোষণযোগ্য কাগজে রাখুন। শেষে লেবুর রস ছিটিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

তৃতীয় পদটি নিমকি, যা ময়দা, কালোজিরা এবং ঘি দিয়ে তৈরি ডো থেকে তৈরি হয়। ময়দা, লবণ, কালোজিরা ও গলিত ঘি একসাথে মিশিয়ে, ধীরে ধীরে পানি যোগ করে নরম ডো গুঁড়ো করুন। ডোকে ভেজা কাপড়ে ঢাকা রেখে পনেরো মিনিট বিশ্রাম দিন, তারপর পাতলা চাপটি রোল করে ইচ্ছামতো আকারে কেটে নিন। তেল গরম করে কম তাপে নিমকিগুলোকে হালকা বাদামী ও খাস্তা হওয়া পর্যন্ত ভাজুন, তারপর কাগজের টাওয়েলে রাখুন যাতে অতিরিক্ত তেল শোষিত হয়।

রান্নার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে; অমলেট ও নিমকি দুটোই কম তাপে ধীরে ধীরে ভাজলে সঠিক ক্রিস্পি টেক্সচার পাওয়া যায়। কুমড়ার ফুলের ফ্রাইয়ের ক্ষেত্রে তেল অতিরিক্ত গরম হলে ফুলগুলো কালো হয়ে যায়, তাই তাপমাত্রা ১৮০ ডিগ্রি বজায় রাখা জরুরি। সব খাবার প্রস্তুত হয়ে গেলে সজ্জিত থালায় সাজিয়ে, লেবু বা টক দইয়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

পহেলা ফালগুনের এই ঘরোয়া সমাবেশে ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও আধুনিক রুচির সমন্বয় দেখা যায়; ডিমের অমলেটের নরমত্ব, কুমড়ার ফুলের ফ্রাইয়ের মশলাদার গন্ধ এবং নিমকির খাস্তা টেক্সচার একসাথে বসন্তের উল্লাসকে বাড়িয়ে তোলে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এই রেসিপিগুলো ভাগ করে নিলে উষ্ণতা ও আনন্দের মুহূর্তগুলো আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে। আপনার বাড়িতে এই তিনটি সহজ রেসিপি দিয়ে পহেলা ফালগুনের উদযাপন করুন এবং বসন্তের রঙিন সূচনা উপভোগ করুন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments