15 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাওয়ালপিন্ডি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত ইমরান খানের ব্যক্তিগত ডাক্তারীর চিকিৎসা আবেদন খারিজ করেছে

রাওয়ালপিন্ডি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত ইমরান খানের ব্যক্তিগত ডাক্তারীর চিকিৎসা আবেদন খারিজ করেছে

রাওয়ালপিন্ডি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) সম্প্রতি ইমরান খান, পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, যিনি আদিয়ালা জেলে আটক, তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানির পর এই রায় প্রদান করে, যা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আবেদনটি ইমরান খানের আইনজীবী ফয়সাল মালিকের পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়েছিল। তিনি আদালতে উল্লেখ করেন যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের অতীতের নওয়াজ শরিফের মতোই চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বিচারাধীন বন্দি হওয়ায় নিজের পছন্দের ডাক্তারকে নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর আইনগত অধিকার দাবি করেন। এছাড়া তিনি জেলটির চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা অপর্যাপ্ত বলে অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে, বিশেষ প্রসিকিউটর জাহির শাহ একই আবেদনকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, যদিও ইমরান খান ৯ মার্চের জিএইচকিউ হামলা মামলায় জামিনে ছিলেন, তবু তিনি অন্যান্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এবং সাজা কার্যকর হয়েছে। তাই তাকে শুধুমাত্র বিচারাধীন বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না, এমন যুক্তি তিনি উপস্থাপন করেন।

পিমস হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টে প্রকাশ পায় যে, ইমরান খান ডান চোখে রক্তনালীজনিত সমস্যার শিকার ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া জেলে তার অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে।

জেল কর্তৃপক্ষের মতে, ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি জেল বিধি অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। তারা জেল প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং রোগীর স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে এই দাবির সঙ্গে বিরোধপূর্ণভাবে ইমরান খানের বোন আলিমা খানাম উল্লেখ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশমতো প্রস্তুত হওয়া মেডিকেল রিপোর্টগুলো এখনো পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি।

এই রায়ের ফলে ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অধিকার ও জেল ব্যবস্থাপনার মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। তার সমর্থকরা আদালতের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যেখানে সরকারী পক্ষ জেল নিরাপত্তা ও আইনগত প্রয়োগের দিক থেকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

আইনি বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের চিকিৎসা আবেদনকেও প্রভাবিত করতে পারে। যদি উচ্চতর আদালত এই সিদ্ধান্তকে আপিল করে, তবে জেলগুলোর স্বাস্থ্যসেবা মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপিত হতে পারে।

অধিকন্তু, ইমরান খানের স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে যুক্ত রক্তনালীজনিত রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও, তার ব্যক্তিগত ডাক্তারীর মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা করার অনুমতি না পেলে, তার আইনগত দল ভবিষ্যতে নতুন রায়ের জন্য আপিলের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখবে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই রায়ের প্রভাব পিটিআই-র নির্বাচনী কৌশল ও জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইমরান খান ও তার পার্টি সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে সরকারী দমনমূলক নীতি হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে।

অপরদিকে, সরকারী পক্ষের জন্য এই রায় একটি আইনি জয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা জেল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে। বিশেষ করে, জিএইচকিউ হামলা মামলায় তার দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং অন্যান্য সাজা কার্যকর হওয়া বিষয়টি আদালতের রায়কে সমর্থন করে।

পরবর্তী ধাপে, ইমরান খানের আইনজীবী দল সম্ভবত উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করবে এবং একই সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিকিৎসা সেবার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। আদালত যদি রায় পরিবর্তন না করে, তবে ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অধিকার ও জেল ব্যবস্থাপনা নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, রাওয়ালপিন্ডি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতের এই রায় ইমরান খানের স্বাস্থ্য অধিকার, জেল ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একাধিক স্তরে প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই বিষয়টি সমাধান হবে, তা দেশের আইনি ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments