ভেনেজুয়েলা সরকার জুয়ান পাব্লো গুইনাপাকে, মেরি কোরিনা মাচাদোর রাজনৈতিক মিত্র এবং জাতীয় সমাবেশের প্রাক্তন সহ-সভাপতি, আট মাসের কারাবাসের পর মুক্ত করেছে। গুইনাপার সন্তান রামন গুইনাপা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়ে বলেছেন, শীঘ্রই পুরো পরিবার আবার একসাথে আলিঙ্গন করতে পারবে, তবে এখনও শত শত ভেনেজুয়েলীয় অবিচারিকভাবে কারাবন্দি রয়েছে।
এই মুক্তি ভেনেজুয়েলা সরকারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বন্দি মুক্তির ধারাবাহিকতার অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানুয়ারি সফরের পর থেকে ধীরে ধীরে বাড়ছে। ৮ জানুয়ারি গৃহস্থ সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, “বহু সংখ্যক” বন্দি মুক্ত হবে, তবে বাস্তবে সপ্তাহে কয়েকজনের সীমিত মুক্তি ঘটেছে।
ফোরো পেনাল, যা রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তা করে, জানিয়েছে প্রায় ৪০০ জন বন্দি ইতিমধ্যে মুক্ত হয়েছে। সংস্থার সভাপতি আলফ্রেডো রোমেরো উল্লেখ করেছেন, রবিবার কমপক্ষে ৩০ জন মুক্তি পেয়েছেন, যার মধ্যে গুইনাপা, পারকিন্স রোচা, হেসুয়েস আরমাস এবং লুইস তারবাই অন্তর্ভুক্ত।
গুইনাপা ২০২৪ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্টিয়াল নির্বাচনের পর লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন। যদিও সরকারী সূত্রে নিকোলাস মাদুরো পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন, তবে বিরোধী গণতান্ত্রিক গোষ্ঠীর মতে ফলাফল বিকৃত ছিল এবং মাদুরোর শাসনকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গুইনাপা ২০২৪ সালের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার পর সন্ত্রাসবাদ ও দেশদ্রোহের অভিযোগে হুমকির মুখে গিয়ে গোপনে লুকিয়ে ছিলেন।
মে ২০২৫-এ ভেনেজুয়েলা নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা গুইনাপা ধরা পড়ে এবং গ্রেফতার করা হয়। একই সময়ে বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মেরি কোরিনা মাচাদো, যিনি নিজেও গোপনে লুকিয়ে ছিলেন, গুইনাপার গ্রেফতারের পর তাকে “রাষ্ট্রের সন্ত্রাসী কাজের মাধ্যমে অপহরণ” বলে অভিযুক্ত করেন। গুইনাপা জাস্টিস ফার্স্ট পার্টির কেন্দ্র-ডান দিকের নেতা, যিনি জুলিয়া অঞ্চলের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছিলেন, তবে শাসন গ্রহণের অনুমতি না পেয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
মাদুরোর শাসনকালে রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমালোচনাও তীব্র হয়েছে। গুইনাপার মুক্তি এই প্রবণতার একটি বিরল উদাহরণ, তবে সরকারী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৃহত্তর মুক্তি এখনও ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথে পরিবর্তন আসতে পারে। গুইনাপার পরিবার ও বিরোধী গোষ্ঠী আশা প্রকাশ করেছে, মুক্তি অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দিদের জন্যও একটি সংকেত হতে পারে। তবে ফোরো পেনালের তথ্য অনুযায়ী এখনও শত শত অবিচারিকভাবে আটক রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারির বিষয় হবে।
গুইনাপা এবং অন্যান্য মুক্তি প্রাপ্তদের পুনরায় সমাজে সংহতকরণ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ভেনেজুয়েলা সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ হবে। মুক্তি প্রক্রিয়ার গতি ও পরিসর দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা নীতি সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে।
সারসংক্ষেপে, জুয়ান পাব্লো গুইনাপার মুক্তি ভেনেজুয়েলা সরকারের রাজনৈতিক বন্দি মুক্তির ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে, তবে এখনও বহু অবিচারিকভাবে আটক ব্যক্তির উপস্থিতি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে। ভবিষ্যতে কীভাবে সরকার এই সংকট মোকাবেলা করবে এবং আরও মুক্তি নিশ্চিত করবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



