15 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকপশ্চিম আফ্রিকায় জিহাদি গোষ্ঠীর ড্রোন আক্রমণ বাড়ছে, নাইজেরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস

পশ্চিম আফ্রিকায় জিহাদি গোষ্ঠীর ড্রোন আক্রমণ বাড়ছে, নাইজেরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস

পশ্চিম আফ্রিকায় জিহাদি গোষ্ঠীগুলি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাণিজ্যিক ড্রোন ব্যবহার করে আকাশ থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে আল-কায়েদা সংযুক্ত গোষ্ঠী বুর্কিনা ফাসো ও মালিতে অন্তত ৬৯টি ড্রোন আক্রমণ রেকর্ড করেছে, আর ইস্লামিক স্টেটের দু’টি শাখা প্রধানত নাইজেরিয়ায় প্রায় ২০টি আক্রমণ চালিয়েছে। সর্বশেষ আক্রমণটি ২৯ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার বর্নো রাজ্যের উত্তরের অংশে ঘটেছে, যেখানে একসাথে বহু সশস্ত্র ড্রোন ও পায়ে হাঁটা যোদ্ধা একটি সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়।

এই আক্রমণে ইস্লামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (ISWAP) যুক্ত ছিল, যা আফ্রিকায় ড্রোন যুদ্ধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সক্রিয় শাখা হিসেবে চিহ্নিত। সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এই হামলায় নয়জন সৈনিক নিহত হয়েছে। ড্রোনগুলো সাধারণত বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ, তুলনামূলকভাবে সস্তা কোয়াডকপ্টার, যেগুলো বিস্ফোরক দিয়ে সজ্জিত করা হয় এবং গৃহযুদ্ধের পূর্বে নজরদারি ও গোয়েন্দা সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়।

নাইজেরিয়ার সরকার বাণিজ্যিক ও শখের ড্রোনের আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনুমতি ছাড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তবুও, জিহাদি গোষ্ঠীগুলি অঞ্চলের অপ্রতিবন্ধক সীমান্তের মাধ্যমে এই ড্রোনগুলোকে গোপন পথে সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। এই গোপন নেটওয়ার্কগুলোকে স্থানীয় গবেষকরা অঞ্চলের দুর্বল সীমানা ও অপর্যাপ্ত তদারকি ব্যবস্থা প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেহেল ও লেক চাদ অঞ্চলে সশস্ত্র ও নজরদারি ড্রোনের ব্যবহার বাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ড্রোনের কম খরচ, ঝুঁকি কমিয়ে গোয়েন্দা সংগ্রহের সক্ষমতা এবং দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ করার ক্ষমতা জিহাদি গোষ্ঠীগুলিকে ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রের তুলনায় বেশি সুবিধা দিচ্ছে। ফলে, পূর্বে কঠিনে পৌঁছানো সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো এখন সহজে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ACLED ডেটা অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ড্রোন আক্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা সেহেল ও লেক চাদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জকে জটিল করে তুলছে, যেখানে ইতিমধ্যে বহু দেশ সীমান্ত নিরাপত্তা ও শরণার্থী প্রবাহের সমস্যার মুখোমুখি। ড্রোনের ব্যবহার শুধু সরাসরি ক্ষতি নয়, বরং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে, যা মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠন কাজকে কঠিন করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই উন্নয়নটি নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। ড্রোনের বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা, সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানো এবং গোপন নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করে জিহাদি গোষ্ঠীর আর্থিক ও লজিস্টিক সমর্থন কেটে ফেলতে হবে।

ভবিষ্যতে, বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে ড্রোন প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে এবং গোষ্ঠীগুলি সেগুলোকে স্বয়ংক্রিয় আক্রমণ ও দীর্ঘ দূরত্বের নজরদারির জন্য ব্যবহার করবে। তাই, নাইজেরিয়া ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির সামরিক কৌশলে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও দ্রুত সনাক্তকরণ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে।

সারসংক্ষেপে, পশ্চিম আফ্রিকায় জিহাদি গোষ্ঠীর ড্রোন ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে, যা আকাশ থেকে আক্রমণকে সহজতর করে এবং ঐতিহ্যবাহী নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলির সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে, ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের আকাশীয় সংঘাতের সম্ভাবনা রয়ে যাবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments