২০২৬ সালের সুপার বোলের প্রি-গেমে গায়িকা কোকো জোনস ‘লিফ এভরি ভয়েস অ্যান্ড সিং’ গাইতে মঞ্চে উঠেছেন। এই অনুষ্ঠানটি লেভি’স স্টেডিয়াম, সান্তা ক্লারায় সিয়াটল সীহকস ও নিউ ইংল্যান্ড পেট্রিয়টসের মুখোমুখি ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হয়। গানের মাধ্যমে তিনি আমেরিকান কালো সংস্কৃতির গর্ব প্রকাশের লক্ষ্যে পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেন।
কোকো জোনস সাদা গাউন পরিধান করে মঞ্চে উপস্থিত হন, যার ওপর লাল, কালো, সবুজ ও নীল রঙের সিকুইন লাইন সাজানো ছিল। গাউনটি পুরোপুরি সাদা রঙের হওয়ায় তার উপস্থিতি আরও উজ্জ্বল দেখায় এবং রঙিন সিকুইনগুলো পারফরম্যান্সের সময় আলোতে ঝলমল করে। তার পোশাকের নকশা ও রঙের সংমিশ্রণ দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অনুষ্ঠানের মর্যাদা বাড়িয়ে তুলেছে।
গানটি গাইতে গাইতে কোকো জোনসের পেছনে একটি স্ট্রিং এনসেম্বল সঙ্গতিপূর্ণ সুরে বাজছিল। ভায়োলিন, চেলো এবং অন্যান্য স্ট্রিং যন্ত্রের সুর গানের আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছিল। এই সঙ্গীত সমন্বয় গানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে জোরদার করে, ফলে দর্শকরা গানের প্রতিটি নোটে মুগ্ধ হন।
‘লিফ এভরি ভয়েস অ্যান্ড সিং’ গানটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়শই ব্ল্যাক ন্যাশনাল অ্যান্থেম হিসেবে পরিচিত এবং ২০২১ সাল থেকে প্রতিটি সুপার বোলের প্রি-গেমে পরিবেশিত হচ্ছে। গত বছর এই গানের পরিবেশনা লেডিসি করেছেন, আর এই বছর কোকো জোনসের পারফরম্যান্স নতুন রঙে গানের ঐতিহ্যকে অব্যাহত রেখেছে। গানের ধারাবাহিকতা সুপার বোলের প্রি-গেমে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোকো জোনসের এই পারফরম্যান্সের পিছনে তার নিজের সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার ইচ্ছা কাজ করেছে। তিনি ছোটবেলা থেকেই শিল্প জগতে নিজের পরিচয়কে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করার লক্ষ্য রাখেন এবং এই বৃহৎ মঞ্চে তা করার সুযোগকে তিনি মূল্যায়ন করেন। তার মতে, এমন একটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টে নিজের সংস্কৃতির সুর তুলে ধরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রি-গেমের অন্যান্য পারফরম্যান্সেও বড় নামগুলো অংশ নিয়েছেন। গ্রিন ডে ব্যান্ড প্রি-গেমের প্রধান পারফরম্যান্সের দায়িত্বে ছিলেন, চার্লি পুথ জাতীয় গীত গেয়েছেন এবং ব্র্যান্ডি কার্লাইল ‘আমেরিকা দ্য বিউটিফুল’ গেয়ে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন। এই সব শিল্পীর উপস্থিতি ইভেন্টকে বহুমুখী ও রঙিন করে তুলেছে।
হাফটাইম শোতে অ্যাপল মিউজিকের অধীনে ব্যাড বানি প্রধান পারফরম্যান্সার হিসেবে মঞ্চে নামবেন। তার র্যাপ ও রিদমের মাধ্যমে হাফটাইম শোকে আরও প্রাণবন্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যাড বানির উপস্থিতি তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করবে এবং শোয়ের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা বাড়াবে।
সিয়াটল সীহকস ও নিউ ইংল্যান্ড পেট্রিয়টসের মধ্যে লেভি’স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচটি ভিন্স লম্বার্ডি ট্রফি জয়ের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। দুই দলই শীতকালীন মৌসুমে চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়ে আসছে এবং ভক্তদের উত্তেজনা শীর্ষে রয়েছে। ম্যাচের ফলাফল সুপার বোলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করবে।
প্রি-গেমের পারফরম্যান্সগুলো টেলিভিশন ও অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে, ফলে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ দর্শকই তা উপভোগ করেছেন। কোকো জোনসের গানের সঙ্গে দর্শকদের উল্লাস ও তালি শোনা গিয়েছে, যা ইভেন্টের সাফল্যকে আরও দৃঢ় করেছে।
কোকো জোনসের এই পারফরম্যান্স এবং অন্যান্য শিল্পীর অংশগ্রহণ সুপার বোলকে শুধু ক্রীড়া ইভেন্ট নয়, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের মঞ্চে পরিণত করেছে। গানের মাধ্যমে তিনি যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তা দর্শকদের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে যাবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা জাগাবে।



