বহু তৃতীয় বিশ্বের দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় নির্বাচন প্রায়ই অস্বচ্ছ, অশান্তি এবং একতরফা ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এই প্রবণতা স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে দেখা যাচ্ছে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নির্বাচনের সময় প্রায়ই স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত এবং শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ভোটার অংশগ্রহণের হার কমে যাওয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রমে শূন্যতা দেখা যায়, যা ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ায়।
বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালিত হলে ফলাফল একতরফা হয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোকে বাদ দেওয়া বা সীমিত করা হয়, ফলে রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে ওঠে।
অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন বা সংগ্রামের পরও জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ত্রুটি রয়ে যায়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরেও সরকারী নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতে সমন্বয় না হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সংঘাত অব্যাহত থাকে।
একই সময়ে, অন্তর্ভুক্তিমূলক বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলো প্রায়ই ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত শাসন চালিয়ে যায়, তবু সামাজিক ও অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের সমাধান হয় না। দারিদ্র্য, সম্পদের অভাব, দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক শোষণের মাত্রা স্থায়ী থাকে।
জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের অভাবের ফলে এই দেশগুলো বারংবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হোঁচট খায়। সরকারী নীতি ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা সত্ত্বেও দারিদ্র্য হ্রাসে অগ্রগতি ধীরগতিতে হয় এবং সামাজিক অশান্তি বজায় থাকে।
বিশ্বের সব দেশেই কিছু না কিছু মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা রয়েছে, তবে উন্নয়নশীল দেশে এই সমস্যাগুলো পুনরাবৃত্তি হওয়ার হার বেশি। ধনী ও গরিব দেশ উভয়ই সমস্যার সম্মুখীন হলেও, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
এই পুনরাবৃত্তি মূলত রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা ও দক্ষতার ঘাটতি থেকে উদ্ভূত হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মেধা ও দক্ষতা না থাকলে স্লোগান ও রেটোরিক্সই প্রধান কার্যকরী উপায় হয়ে দাঁড়ায়, যা বাস্তব নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়।
ফলস্বরূপ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, একতরফা শাসন এবং সামাজিক অস্থিরতা একে অপরকে বাড়িয়ে দেয়। এই চক্র ভাঙতে হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণের সুযোগ এবং রাজনৈতিক সংলাপের উন্নতি প্রয়োজন, যদিও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
উন্নয়নশীল দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নির্দেশ করে যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সমৃদ্ধি একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব না হলে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান না হলে দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দুর্বল অবস্থান বজায় থাকবে।



