সির কীর্স স্টার্মারের শীর্ষ সহকারী মরগান ম্যাকসুইনি হঠাৎ পদত্যাগ করেছেন, যা যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দৃশ্যকে অস্থির করে তুলতে পারে। তার প্রস্থানের পেছনে ২০২৪ সালের শরতে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে নিয়োগের পরামর্শের ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ বিরোধ উল্লেখযোগ্য।
ম্যাকসুইনি দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করলেও তিনি কখনো পাবলিকভাবে তার মতামত প্রকাশ করেননি। টেলিভিশন ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফারদের সামনে তার উপস্থিতি বিরল, এবং তার কণ্ঠস্বরের রেকর্ডও খুব কমই পাওয়া যায়।
অক্টোবর‑২০২৪-এ লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটন দূত হিসেবে প্রস্তাব দেওয়ার পরামর্শের ফলে স্টার্মারের সঙ্গে তার সম্পর্ক তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ কৌশলগত মতবিরোধকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্টার্মার এখন প্রশ্নের মুখে যে, ম্যাকসুইনি ছাড়া তিনি কীভাবে তার রাজনৈতিক কৌশল চালিয়ে যাবেন। বহু বিশ্লেষক ও পার্টি সদস্যের মতে, ম্যাকসুইনি স্টার্মারের রাজনৈতিক মস্তিষ্কের মতো কাজ করতেন, এবং তার অনুপস্থিতি শীর্ষ নীতিনির্ধারণে ফাঁক তৈরি করতে পারে।
স্টার্মার এবং ম্যাকসুইনির সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়; প্রথাগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর পছন্দে নিযুক্ত হন, তবে এই ক্ষেত্রে তা উল্টোভাবে ঘটেছে। ম্যাকসুইনি নিজেই স্টার্মারের সঙ্গে কাজ শুরু করেন, এবং তার পরামর্শে স্টার্মারকে পার্টির শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
কর্বিনের শাসনকালে লেবার পার্টির বামপন্থী শাখা শক্তিশালী থাকলে, ম্যাকসুইনি পার্টি সদস্যদের জরিপ করে শ্যাডো ব্রেক্সিট সেক্রেটারি এবং আইনজীবীকে পার্টির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের সর্বোত্তম সুযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি প্রো‑কর্বিন সদস্যদের মধ্যে স্টার্মারকে তাদেরই একজন হিসেবে উপস্থাপন করে কৌশলগত জাল বুনেছিলেন।
স্টার্মার নেতৃত্বে আসার পর তিনি অনেক কর্বিন সমর্থককে, যার মধ্যে প্রাক্তন নেতা নিজেও অন্তর্ভুক্ত, পার্টি থেকে বাদ দেন এবং কেন্দ্রপন্থী নির্বাচনী বার্তায় রূপান্তরিত হন। এই পরিবর্তন লেবারকে মধ্যম ভোটারদের কাছে আকর্ষণীয় করতে লক্ষ্য করেছিল, তবে একই সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র বিরোধের সঞ্চার ঘটায়।
ম্যাকসুইনির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ২০০১ সালের লেবার পার্টি নির্বাচনের সময় পার্টি সদর দফতরে এবং স্থানীয় সরকারে কাজ করার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। এই অভিজ্ঞতা তাকে ক্যাম্পেইন পরিকল্পনা ও ভোটার বিশ্লেষণে পারদর্শী করে তুলেছিল, যা পরবর্তীতে স্টার্মারের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডমিনিক কাম্বসের মতোই, ম্যাকসুইনি একদিকে নির্বাচনী বিজয়ের জন্য কৃতিত্ব পান, অন্যদিকে সরকারে শাসনকালে নীতি পরিবর্তন ও অস্থিরতার জন্য সমালোচিত হন। তার কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো কখনো কখনো দ্রুত উল্টে যাওয়া নীতির রূপ নেয়, যা পার্টির অভ্যন্তরে অনিশ্চয়তা বাড়ায়।
ম্যাকসুইনি পদত্যাগের পর কিছু সংসদ সদস্য নং‑১০-এ পুরুষ-প্রধান সংস্কৃতির বিদ্যমানতা উল্লেখ করে সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক রিসেটের দাবি তুলেছেন। তারা বলেন যে একক কর্মীর পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়; পার্টির অভ্যন্তরে শাসন পদ্ধতি ও কর্মপরিবেশের মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
স্টার্মার এখন ম্যাকসুইনির দুই সহকারী, জিল কুথবার্টসন এবং বিদ্যা আলাকেসনকে যৌথ উত্তরাধিকারী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। এই পদক্ষেপটি শীর্ষ পরামর্শদাতার শূন্যতা পূরণ করার পাশাপাশি পার্টির অভ্যন্তরে সংস্কার ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্য বহন করে। ভবিষ্যতে এই নতুন নেতৃত্বের কার্যকারিতা এবং স্টার্মারের নীতি দিকনির্দেশনা কীভাবে গঠিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



