AT&T সম্প্রতি AmiGO Jr. ফোন নামে একটি স্মার্টফোন চালু করেছে, যা বিশেষভাবে শিশুরা ব্যবহার করার জন্য তৈরি এবং প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ফিচারগুলো সঙ্গে সজ্জিত। এই ডিভাইসটি AT&T-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মাসিক $3-এ, ৩৬ মাসের চুক্তি শর্তে বিক্রয়ের জন্য উপলব্ধ।
ফোনের মূল হার্ডওয়্যার Samsung Galaxy A16 মডেল থেকে নেওয়া, যার মধ্যে ৫০ মেগাপিক্সেল প্রধান ক্যামেরা, ৬.৭ ইঞ্চি বড় স্ক্রিন এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ অন্তর্ভুক্ত। এই স্পেসিফিকেশনগুলো বাজেট সেগমেন্টে এখনও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত।
AT&T এই হ্যান্ডসেটের ওপর নিজস্ব সফটওয়্যার স্তর যুক্ত করে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলকে মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্থাপন করেছে। AmiGO অ্যাপের মাধ্যমে পিতামাতা রিয়েল‑টাইম লোকেশন ট্র্যাকিং, নির্ধারিত নিরাপদ অঞ্চল (সেইফ জোন) এবং স্ক্রিন টাইম সীমা নির্ধারণ করতে পারবেন। এই সেটিংসগুলো দূর থেকে পরিচালনা করা সম্ভব, ফলে শিশুর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
শিশুদের জন্য স্মার্টফোনে প্যারেন্টাল কন্ট্রোলের ধারণা নতুন নয়; Bark এবং Pinwheel মতো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলো ইতিমধ্যে বাজারে রয়েছে। তবে একটি বড় মোবাইল ক্যারিয়ার হিসেবে AT&T প্রথমবারের মতো নিজস্ব স্ট্যান্ডঅ্যালোন পণ্য হিসেবে এই সেবা প্রদান করছে, যা শিল্পে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
মূল্য নির্ধারণের দিক থেকে AmiGO Jr. ফোনকে মাসিক $3 ফি এবং ৩৬ মাসের চুক্তি শর্তে বিক্রি করা হয়েছে, যেখানে বিল ক্রেডিটের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত। একই ডিভাইসটি সরাসরি $200 দরে Samsung Galaxy A16 হিসেবে কেনা হলে তুলনায় এই পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয়ী। ব্যবহারকারীকে এখনও AT&T-এর মাসিক সেবা ফি প্রদান করতে হবে, তবে মোট খরচ কমে যায়।
AT&T এই ফোনের পাশাপাশি AmiGO Jr. Watch 2 নামের একটি স্মার্টওয়াচও বাজারে এনেছে, যা একই প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ইকোসিস্টেমের অংশ। এছাড়াও কোম্পানি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা ট্যাবলেটও সরবরাহ করে, ফলে একটি সম্পূর্ণ পরিবারিক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল পিতামাতার উদ্বেগ কমিয়ে, শিশুদের নিরাপদে স্মার্টফোন ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান করা। রিয়েল‑টাইম লোকেশন এবং স্ক্রিন টাইম সীমা মত ফিচারগুলো দিয়ে বাবা-মা তাদের সন্তানের অনলাইন আচরণ সহজে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে, ডিভাইসের হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন বাজেট সীমার মধ্যে থাকায় অধিকাংশ পরিবারের জন্য এটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প।
বাজারে এই ধরনের ক্যারিয়ার-নির্দিষ্ট পণ্য প্রবেশের ফলে অন্যান্য টেলিকম কোম্পানিগুলোরও সমজাতীয় সেবা চালু করার সম্ভাবনা বাড়ছে। যদি ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা ইতিবাচক হয়, তবে ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ফিচারগুলো আরও মানিকৃত হয়ে বিভিন্ন ক্যারিয়ার প্ল্যানের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
সারসংক্ষেপে, AT&T-এর AmiGO Jr. ফোন একটি সাশ্রয়ী মূল্যের, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সমৃদ্ধ স্মার্টফোন হিসেবে শিশুদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিরাপদে গড়ে তোলার নতুন পথ দেখাচ্ছে। এই পণ্যটি প্রযুক্তি ও পরিবারিক নিরাপত্তার সংযোগস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



