ঢাকা‑১১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রোববার রাত ১১ টার পরে একটি তীব্র ভাষণ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন সুর তুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে ১৩ তারিখ থেকে “দেশ গঠনের যুদ্ধ” শুরু হবে এবং সকল ভোটারকে বিএনপির পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।
রাতের সমাবেশটি বাড্ডার সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সন্ধ্যা ছয়টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের সূচনা হয়। সভায় বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, পাশাপাশি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র জন্য দোয়া করা হয়। বিকেল থেকে স্থানীয় ভোটার, নেতা‑কর্মী ও সমর্থকরা ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত হয়ে জনসভার পরিবেশ গড়ে তোলেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভোটদানে সতর্কতা এবং সঠিক প্রার্থী নির্বাচন। তিনি উল্লেখ করেন, “একটি মহল ষড়যন্ত্র করে ভোটকে বানচাল করতে চায়, বিতর্কিত করতে চায়।” এ ধরনের কৌশল রোধে তিনি ভোটারদের পাড়া‑পাড়া, মহল্লা‑মহল্লা নজর রাখতে নির্দেশ দেন, যাতে গোপন দলগুলো মানুষকে বিভ্রান্ত করতে না পারে। এছাড়া তিনি নকল সিল ব্যবহার করে ব্যালট পেপার পরিবর্তনের চেষ্টা করা গোপন বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার ঘটনা উল্লেখ করে, ভোটারদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, নারী স্বাবলম্বিতা—এই সব ক্ষেত্রেই আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মুহূর্তে বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল, যার কাছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রয়েছে।” তারেক রহমানের মতে, যদি জনগণ তাদের সঙ্গে থাকে, ধানের শীষে ভোট দেয়, তবে প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা সরাসরি মন্তব্য না করলেও, র্যালি শেষে উপস্থিতি ও সমর্থন থেকে বোঝা যায় যে স্থানীয় স্তরে বিএনপির ভিত্তি এখনও শক্তিশালী। তবে রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে, কোনো সরকারী বা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের আগে এই ধরনের র্যালি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। যদি তারেক রহমানের আহ্বান অনুসরণ করে ভোটাররা বৃহৎ পরিসরে বিএনপির দিকে ঝুঁকে যায়, তবে নির্বাচনী ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে, গোপন দল ও নকল সিলের মতো অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে নজরে থাকবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই র্যালি দেশের ভবিষ্যৎ গঠন ও রাজনৈতিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়। তিনি ভোটারদের সতর্কতা, সঠিক প্রার্থী নির্বাচন এবং দেশের পুনর্গঠনের জন্য একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন। আগামী দিনগুলোতে ভোটারদের আচরণ, গোপন দলগুলোর কার্যক্রম এবং নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, ১৩ ফেব্রুয়ারি “দেশ গঠনের যুদ্ধ” বাস্তবে কী রূপ নেবে।



