17 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনস্টার্টআপ ফ্যাবল জেনারেটিভ এআই দিয়ে 'দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট অ্যাম্বারসন্স' এর হারানো দৃশ্য পুনর্নির্মাণে...

স্টার্টআপ ফ্যাবল জেনারেটিভ এআই দিয়ে ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট অ্যাম্বারসন্স’ এর হারানো দৃশ্য পুনর্নির্মাণে কাজ করছে

অরসন ওয়েলসের ১৯৪২ সালের ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট অ্যাম্বারসন্স’ এর হারিয়ে যাওয়া অংশ পুনরায় তৈরি করার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টার্টআপ ফ্যাবল এই সপ্তাহে বিশদ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠাতা এডওয়ার্ড সাচি নেতৃত্বে গৃহীত এই প্রকল্পটি জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল অভিনেতা ও তাদের কণ্ঠস্বরের ডিজিটাল পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য রাখে। ফ্যাবল এই কাজের জন্য লন্ডন ভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা ব্রায়ান রোজের সঙ্গে সহযোগিতা করছে, যিনি পূর্বে একই চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট ও নোটের ভিত্তিতে অ্যানিমেটেড দৃশ্য তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

ফ্যাবল গত শরতে প্রথমবারের মতো জানিয়েছিল যে তারা ‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট অ্যাম্বারসন্স’ এর নিখোঁজ ফুটেজ পুনরায় তৈরি করতে চায়। ঘোষণার সময় এডওয়ার্ড সাচি উল্লেখ করেন যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলচ্চিত্রের মূল দৃশ্যগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হতে পারে। তবে এই ধারণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রেমিক ও সমালোচকদের মধ্যে সন্দেহের স্রোত বয়ে যায়, কারণ বহু বছর আগে এই চলচ্চিত্রের মূল অংশই স্টুডিও কর্তৃক কেটে ফেলা হয়েছিল এবং মূল ফিল্মের বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে সীমিত মূল্যবোধের বলে সমালোচকরা মন্তব্য করেন। তবে নিউ ইয়র্কারের একটি গভীর বিশ্লেষণমূলক প্রোফাইল প্রকাশের পর প্রকল্পের পেছনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এডওয়ার্ড সাচি, যিনি বিজ্ঞাপন জায়ান্ট সাচি & সাচির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সন্তান, ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি গভীর আকর্ষণ পোষণ করেছেন। তিনি তার শৈশবের কথা স্মরণ করে বলেন যে তিনি বারো বছর বয়সে প্রথমবার ‘অ্যাম্বারসন্স’ দেখেছিলেন এবং তখন থেকেই ওয়েলসের কাজের প্রতি অনুরাগ গড়ে ওঠে।

‘অ্যাম্বারসন্স’ ওয়েলসের মতে ‘সিটিজেন কেন’ এর চেয়েও উৎকৃষ্ট একটি চলচ্চিত্র ছিল। তবে প্রাথমিক প্রিভিউতে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে খারাপ হওয়ায় স্টুডিও চলচ্চিত্রের ৪৩ মিনিট কেটে দেয়, একটি হঠাৎ এবং অপ্রসঙ্গিক সুখী সমাপ্তি যোগ করে এবং অবশিষ্ট অংশগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এই ঘটনার ফলে চলচ্চিত্রের মূল রূপ আজকের দর্শকদের কাছে অপ্রাপ্য রয়ে গেছে, যা চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম হারিয়ে যাওয়া ধন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এডওয়ার্ড সাচি এই কাজকে ‘হারিয়ে যাওয়া সিনেমার পবিত্র গ্রিল’ বলে উল্লেখ করেন এবং বিশ্বাস করেন যে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে অতীতের ভুল সংশোধন করা সম্ভব। তার মতে, ওয়েলসের মূল দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় জীবন্ত করা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাই ফ্যাবল এই প্রকল্পকে শুধুমাত্র আর্থিক লাভের চেয়ে শিল্পের প্রতি সম্মান ও পুনরুদ্ধারের একটি মিশন হিসেবে দেখছে।

ব্রায়ান রোজের সঙ্গে সহযোগিতা প্রকল্পের প্রযুক্তিগত দিককে আরও শক্তিশালী করেছে। রোজ পূর্বে ‘অ্যাম্বারসন্স’ এর স্ক্রিপ্ট, ফটোগ্রাফ এবং ওয়েলসের নোট ব্যবহার করে অ্যানিমেটেড দৃশ্য তৈরি করার জন্য বহু বছর ব্যয় করেছেন। তার কাজের প্রথম প্রদর্শনীতে দর্শকরা কিছুটা বিভ্রান্তি প্রকাশ করলেও, রোজের প্রচেষ্টা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা প্রমাণ করেছে। ফ্যাবল এখন রোজের অ্যানিমেশনকে ভিত্তি করে বাস্তবিক লাইভ-অ্যাকশন শুটিং পরিচালনা করছে, যার পরে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মূল অভিনেতাদের মুখ ও কণ্ঠস্বর পুনর্নির্মাণ করা হবে।

প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্যাবল প্রথমে দৃশ্যগুলোকে বাস্তব সেটে শ্যুট করে, তারপর ডিজিটাল রেন্ডারিং ও ডীপ লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অভিনেতাদের চেহারা ও স্বর পুনরায় তৈরি করবে। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রের মূল নান্দনিকতা বজায় রেখে আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের সুবিধা গ্রহণের লক্ষ্য রাখে। বর্তমানে ফ্যাবল প্রথম কয়েকটি দৃশ্যের প্রোটোটাইপ সম্পন্ন করেছে এবং সেগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে ফ্যাবল ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্যের পুনর্নির্মিত সংস্করণ প্রকাশের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। যদিও এখনো বাণিজ্যিক রিলিজের সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে দলটি বিশ্বাস করে যে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করা সম্ভব এবং শেষ পর্যন্ত দর্শকদের কাছে একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের নতুন সংস্করণ উপস্থাপন করা যাবে।

‘দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট অ্যাম্বারসন্স’ এর হারিয়ে যাওয়া অংশকে পুনরায় জীবন্ত করা চলচ্চিত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে পারে। ফ্যাবল ও রোজের যৌথ প্রচেষ্টা দেখায় যে আধুনিক এআই প্রযুক্তি ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এই উদ্যোগের সাফল্য ভবিষ্যতে অনুরূপ হারিয়ে যাওয়া চলচ্চিত্রের পুনর্নির্মাণে পথপ্রদর্শক হতে পারে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমী ও গবেষকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments