ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জাতীয় সংস্কার কমিশন সরকারী বিজ্ঞাপন রেটের হারে বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেছে। কমিশনের এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকারী বিজ্ঞাপন সেবার মূল্য পর্যালোচনা করে নতুন রেট নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে। সুপারিশটি ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ৮:৫০ টায় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় সংস্কার কমিশন হল একটি স্বতন্ত্র সংস্থা, যার কাজ সরকারি নীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার পর্যালোচনা করা। বিজ্ঞাপন রেটের ক্ষেত্রে, কমিশন বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং পাবলিক সেক্টরের আর্থিক চাহিদা বিবেচনা করে সুপারিশ প্রদান করে। এইবারের সুপারিশে রেটের হারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট শতাংশ বা টাকার পরিমাণ প্রকাশিত হয়নি।
কমিশনের রেট বৃদ্ধির প্রস্তাবের পর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরকারী বিজ্ঞাপন নীতিমালা সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করছে। রেট পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে এবং তা কার্যকর হবে পরবর্তী আর্থিক বছরের শুরুতে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নতুন রেটের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে হবে।
সরকারি বিজ্ঞাপন বাংলাদেশে জনসাধারণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রের বার্তা সরকারী মিডিয়া, টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হয়। রেট বৃদ্ধির ফলে এই সেবাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের পরিমাণ বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন রেটের পূর্ববর্তী কাঠামো শেষবার ২০২২ সালে নির্ধারিত হয়েছিল। সেই সময়ের রেটের ভিত্তিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন সেবা গ্রহণ করত। রেট বৃদ্ধির ফলে বিজ্ঞাপন গ্রহণকারী সংস্থাগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, তবে একই সঙ্গে মিডিয়া হাউসগুলোর আয়ও বাড়বে।
রাজনৈতিক পরিবেশে সরকারী বিজ্ঞাপন রেটের পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়শই সরকারী বিজ্ঞাপন স্লট ব্যবহার করে জনমত গঠন করে। রেট বৃদ্ধির ফলে নির্বাচনী সময়ে বিজ্ঞাপন ব্যয়ের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। তবে এই পরিবর্তনটি সরকারী বিজ্ঞাপন নীতিমালার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের সুপারিশের পর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য নতুন রেটের কাঠামো ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নির্দেশিকায় রেটের হিসাব, পেমেন্ট পদ্ধতি এবং বিজ্ঞাপন প্রকাশের সময়সূচি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। বিজ্ঞাপনদাতাদেরকে নতুন রেটের অধীনে চুক্তি সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে।
সরকারি বিজ্ঞাপন রেটের পরিবর্তন দেশের মিডিয়া বাজারে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দেবে। রেট বৃদ্ধির ফলে মিডিয়া হাউসগুলো বিজ্ঞাপন আয়ের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমের মানোন্নয়ন করতে পারবে, যা শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের কাছে আরও উন্নত সেবা প্রদান করবে। একই সঙ্গে, বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য বাজেট পরিকল্পনা পুনরায় সাজাতে হবে, যাতে তারা নতুন রেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকরী প্রচার চালাতে পারে।
জাতীয় সংস্কার কমিশনের এই পদক্ষেপটি দেশের আর্থিক নীতি ও পাবলিক সেক্টরের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রেট পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তী ধাপে গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
এই রেট বৃদ্ধি প্রস্তাবের বাস্তবায়ন সরকারী বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী টেকসইতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, জনসাধারণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সম্পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে। রেট পরিবর্তনের ফলে সরকারী বিজ্ঞাপন সেবার গুণগত মান ও পরিসরে উন্নতি আশা করা হচ্ছে।



