চট্টগ্রাম বন্দরের রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা রবিবার রাতের শেষ দিকে ধর্মঘটের সময়সূচি ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তের তথ্য সকাল ১২:১০টায় পারিষদ সমন্বয়ক মোঃ ইব্রাহিম খোকান জানান।
খোকান উল্লেখ করেন, শিপিং উপদেষ্টা ও বিডা (বিডা) চেয়ারম্যান দুজনই ঢাকার আলাদা আলাদা টেলিভিশন প্রোগ্রামে জানিয়েছেন যে নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) লিজ চুক্তি অস্থায়ী সরকারের মেয়াদে স্বাক্ষর হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) একই দিনে ১৬জন কর্মী নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপের পরেও পারিষদ ধর্মঘটকে পুনর্বিবেচনা করে, সোমবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে।
ধর্মঘটের পুনঃনির্ধারণের পেছনে দুইটি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে: শীঘ্রই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং রমজানের আগে আমদানি পণ্যের মুক্তি নিশ্চিত করা। এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পারিষদ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
খোকান আশ্বাস দেন যে ধর্মঘটের স্থগিতের পরেও বন্দর কার্যক্রম সকালেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, পণ্য লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই চলবে।
ধর্মঘটের বিলম্বের ফলে আমদানি ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে সময়মতো পণ্য সরবরাহে সুবিধা হবে, বিশেষত রমজান মাসে চাহিদা বাড়ার সময়। শিপিং লাইন ও লজিস্টিক কোম্পানিগুলোও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
অন্যদিকে, NCT লিজ চুক্তির দেরি বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিডা ও শিপিং উপদেষ্টার মন্তব্য অনুসারে, অস্থায়ী সরকারের মেয়াদে চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া প্রকল্পের আর্থিক প্রবাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, ধর্মঘটের স্থগিত বন্দর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং পণ্য প্রবাহে অস্থায়ী ব্যাঘাত রোধ করবে। তবে, ভবিষ্যতে যদি ধর্মঘট পুনরায় শুরু হয়, তা শিপিং ফি ও কন্টেইনার ভাড়া বাড়াতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে শ্রমিক সংগঠন ও সরকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সমন্বয় বন্দর পরিচালনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা পুনরায় ধর্মঘটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ধর্মঘটের পুনঃনির্ধারণ বাণিজ্যিক প্রবাহে স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তবে NCT লিজের অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীর মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
পরিশেষে, চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠন উভয়ই বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সমঝোতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা দেশের বাণিজ্যিক লজিস্টিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।



