17 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন, ফাইল প্রকাশে প্রকাশিত

প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন তথ্য শেয়ার করেছেন, ফাইল প্রকাশে প্রকাশিত

প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর, যিনি ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য রায়দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ২০১০‑২০১১ সালের সময়ে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন সরকারি তথ্য ভাগ করে নিয়েছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ফাইল প্রকাশে জানা গেছে।

ব্রিটিশ মিডিয়ার হাতে পৌঁছানো এপস্টেইন ফাইলের ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু তার অফিসিয়াল সফরের পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের গোপন সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত এপস্টেইনকে পাঠিয়েছেন। এতে সিঙ্গাপুর, হংকং, ভিয়েতনাম এবং চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠিত ভ্রমণের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বাণিজ্য রায়দূতদের জন্য গোপনীয়তা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক, বিশেষ করে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে। তবে অ্যান্ড্রু এই নীতি লঙ্ঘন করে এপস্টেইনের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করেছেন বলে ইমেইলগুলোতে স্পষ্ট হয়েছে।

ইমেইলগুলোতে ৭ অক্টোবর ২০১০ তারিখে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে তার আসন্ন ভ্রমণের সূচি পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, শেনঝেন এবং হংকংয়ে ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে সফর করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

সেই সফরের পর, ৩০ নভেম্বর ২০১০ তারিখে অ্যান্ড্রু তার বিশেষ সহকারী অমিত প্যাটেলের কাছ থেকে প্রাপ্ত অফিসিয়াল রিপোর্টগুলো মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এপস্টেইনের কাছে ফরোয়ার্ড করেন। এতে সফরের ফলাফল ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশদ তথ্য ছিল।

অ্যান্ড্রু ২০১৯ সালে একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামে বলেছিলেন, তিনি শেষবার এপস্টেইনকে নিউ ইয়র্কে দেখেছিলেন ডিসেম্বর ২০১০-এ এবং বন্ধুত্ব শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে একই বছরের বড়দিনের আগের রাতে তিনি এপস্টেইনকে আফগানিস্তানের হেলম্যান্ড প্রদেশের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের বিনিয়োগের গোপন ব্রিফিং পাঠিয়েছেন।

হেলম্যান্ড প্রদেশের পুনর্গঠন তখন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং যুক্তরাজ্যের তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল। এ সময় এপস্টেইন ইতিমধ্যে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ছিলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রী ভিন্স ক্যাবল, যিনি তখন ব্যবসা মন্ত্রী ছিলেন, অ্যান্ড্রু এই তথ্য শেয়ার করার বিষয়ে অজ্ঞ ছিলেন এবং এই বিষয়টি প্রথমবারের মতো জানেন। তিনি এ বিষয়ে কোনো পূর্ব জ্ঞান না থাকার কথা পুনরায় জোর দিয়েছেন।

অ্যান্ড্রু এই অভিযোগের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করেছেন এবং কোনো অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কথা জোর দিয়ে বলছেন। তিনি এখনো এই বিষয়ের ওপর কোনো মন্তব্য করেননি।

ফাইলগুলোতে আরও একটি ইমেইল ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তারিখের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অ্যান্ড্রু এপস্টেইনকে অতিরিক্ত তথ্য পাঠিয়েছেন, তবে তার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়নি।

এই প্রকাশের ফলে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। অ্যান্ড্রু পূর্বে রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে বহুবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, এবং এই নতুন তথ্য তার রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত এই ইমেইলগুলো সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দেয়নি, তবে জনসাধারণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তীব্রতর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যদি প্রমাণিত হয় যে অ্যান্ড্রু গোপনীয় তথ্য অবৈধভাবে শেয়ার করেছেন, তবে তা তার দায়িত্বের লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য আইনি পরিণতি বয়ে আনতে পারে।

অন্যদিকে, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সংযোগের ইতিহাস ইতিমধ্যে বহুবার সমালোচনার মুখে পড়েছে, এবং এই নতুন তথ্য তার সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রুকে কোনো সরকারি পদে পুনরায় নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, বিশেষ করে জনমত ও পার্টি নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে।

ব্রিটিশ মিডিয়া এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং তারা দাবি করছে যে রাজপরিবারের সদস্যদের গোপনীয় তথ্যের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট নীতি থাকা দরকার।

অ্যান্ড্রুর আইনগত দল এখনও এই ইমেইলগুলোকে গোপনীয়তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে না এবং দাবি করছে যে তথ্যগুলো সরকারি দায়িত্বের পরিধির বাইরে ছিল।

যদিও এপস্টেইনের মৃত্যুর পরেও তার নথিপত্রে নতুন তথ্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে, তবু এই ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নকে তীব্র করে তুলেছে।

অবশেষে, এই ফাইলের প্রকাশের ফলে অ্যান্ড্রু এবং যুক্তরাজ্যের সরকার উভয়েরই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের দিকে নজর বাড়বে, এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা থাকবে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ তদন্তের।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments