দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড মেট্রোরেল সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখবে, এ ঘোষণা আজ প্রকাশিত হয়েছে। এটি ভোটারদের নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানির পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলমের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মেট্রোরেল সেবা কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলবে। বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত ট্রেন চালু করার পরিকল্পনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভোটের দিন মেট্রোরেলের সময়সূচি পূর্বের মতোই থাকবে, অর্থাৎ উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ভোরের ছয়টায় অর্ধেক মিনিটে চলবে। শেষ ট্রেন রাতের নয়টা এক মিনিটে মতিজহলের দিকে রওনা হবে।
মতিজহল থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনের দিকে প্রথম ট্রেন সকাল সাতটা পনেরো মিনিটে এবং শেষ ট্রেন রাতের নয়টা একচল্লিশ মিনিটে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই সময়সূচি ভোটারদের জন্য সুবিধাজনকভাবে নির্ধারিত।
ভোটের সময়সূচির বাইরে মেট্রো ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটারদের যাতায়াতের চাপ কমে। বিশেষ করে উচ্চ ভোটার প্রবাহের সময় অতিরিক্ত রাইড প্রদান করা হবে।
দৈনিক সেবার পাশাপাশি, ভোটের দিন বিশেষভাবে ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করা হবে, যা প্রায় এক ঘণ্টায় এক ট্রেনের পরিবর্তে প্রতি ত্রিশ মিনিটে এক ট্রেন চালু করবে। এটি ভোটারদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের এই পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটের দিন শহরের পরিবহন ব্যবস্থা সুষ্ঠু থাকে। উভয় সংস্থা ভোটার নিরাপত্তা ও সময়মতো ভোটদান নিশ্চিত করতে একসাথে কাজ করবে।
পূর্ববর্তী নির্বাচনী সময়ে মেট্রোরেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এইবারও উচ্চতর যাত্রীসংখ্যা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ট্রেন চালু করে যাত্রীদের ভিড় কমানো হবে।
মেট্রোরেল পরিচালনা দল নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে, অতিরিক্ত স্টাফ ও নিরাপত্তা কর্মী রুটে স্থাপন করা হবে। যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।
মেট্রোরেলের ফি ও সেবা মান একই থাকবে, ভোটারদের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা হবে না। সাধারণ টিকিটের মাধ্যমে যাত্রা করা যাবে, বিশেষ কোনো পারমিটের প্রয়োজন নেই।
এই ঘোষণাটি রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জনসাধারণকে সময়মতো তথ্য জানাতে এই ধরনের প্রকাশনা নিয়মিতভাবে করা হয়।
মেট্রোরেল ছাড়াও শহরের অন্যান্য পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, যেমন বাস ও রিকশা, ভোটের দিন স্বাভাবিক সেবা চালিয়ে যাবে। এতে মোট পরিবহন নেটওয়ার্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
নগর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের মতে, মেট্রোরেল ব্যবহার বাড়লে রাস্তায় গাড়ি ও বাসের চাপ কমবে, ফলে ট্রাফিক জ্যাম কমে যাবে। এটি শহরের পরিবেশগত দিকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভোটের দিন মেট্রোরেলের সময়সূচি ও অতিরিক্ত ট্রেনের তথ্য নির্বাচনী কেন্দ্রের নিকটবর্তী স্টেশনগুলোতে পোস্টার ও ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে। যাত্রীরা এই তথ্যের ভিত্তিতে তাদের যাত্রা পরিকল্পনা করতে পারবেন।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের এই উদ্যোগ ভোটারদের সময়মতো ভোটদান সহজতর করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে। সামগ্রিকভাবে, শহরের নির্বাচনী দিনকে মসৃণ ও নিরাপদ করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



