মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে যাওয়ার পথে একটি কন্টেইনার জাহাজ থাইল্যান্ডের ফুকেটের দক্ষিণ উপকূলে উল্টে যায়। ঘটনাটি ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার বিকেলে ঘটেছে এবং জাহাজে ছিল ১৬ জন বাংলাদেশি ক্রু। সকল ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করে চালং বে তীরে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখিত জাহাজটি প্যানামা পতাকাবাহী “Sealloyd Arc” নামে পরিচিত এবং এতে প্রায় ২৯০টি কন্টেইনার লোড ছিল। জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং থেকে রওনা হয়ে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ছিল।
জাহাজটি ৫ ফেব্রুয়ারি পোর্ট ক্ল্যাং থেকে রওনা হয় এবং ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে ফুকেটের উপকূলে অপ্রত্যাশিত সমস্যার কারণে যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়।
থাইল্যান্ডের মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট কমান্ড সেন্টার রিজিয়ন ৩ (Thai MECC3) জানায়, জাহাজটি লেম ফ্রোমথেপের দক্ষিণে, প্রায় তিন নটিক্যাল মাইল দূরে, প্রচুর পরিমাণে পানি গ্রহণ করে। এই পানির প্রবাহ জাহাজকে তীব্রভাবে ঝুঁকে দিতে বাধ্য করে এবং ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
ক্যাপ্টেন জাহাজের অবস্থা মূল্যায়ন করে তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন এবং তৎক্ষণাৎ সিগন্যাল পাঠিয়ে সাহায্যের আহ্বান জানান। জাহাজের ঢালু অবস্থায় ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে ওঠে।
প্রথমে একটি অজানা মাছ ধরা নৌকা জাহাজের কাছাকাছি এসে আটজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করে। এই নৌকা দ্রুতই তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় এবং পরবর্তী রেসকিউ কাজের জন্য প্রস্তুত হয়।
এরপর ফুকেট প্রাদেশিক প্রশাসনিক সংস্থার একটি রেসকিউ নৌকা এসে বাকি আটজন ক্রুকে উদ্ধার করে। উভয় দলই ক্রুদের চালং বে পিয়ার পর্যন্ত নিয়ে যায়, যেখানে তারা শিকড়ে পৌঁছায়।
সকল ১৬ জন ক্রু সদস্যই কোনো শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে তীরে পৌঁছায় এবং কোনো আঘাতের রিপোর্ট নেই। উদ্ধারকৃত ক্রুদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা ও বিশ্রাম প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের আলভি লাইনসের স্থানীয় এজেন্ট মি. মো. মুকুল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্ল্যাং থেকে রওনা হওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাহাজের ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা বিশ্লেষক রমেশ চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের ঘটনা দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শও দেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা কমে।
থাইল্যান্ডের মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির পর জাহাজের রুটে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। এছাড়া, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ উভয় দেশই সমুদ্র নিরাপত্তা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রেসকিউ সক্ষমতা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ফুকেটের উপকূলে এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, কারণ এই অঞ্চলটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরের প্রধান বাণিজ্যিক পথের একটি। নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করতে সমুদ্র পর্যবেক্ষণ সিস্টেম ও ত্রুটি সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে।
অবশেষে, বাংলাদেশি ক্রুদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন দেশের সমুদ্র কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে। সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



