ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার মাঝামাঝি ঢাকা‑১১ আসনের একটি জনসভায়, নাহিদ ইসলামের সমর্থনে ভোট চাওয়া এক নারী নিজেকে শহীদ ওসমান বিন হাদির বোন বলে পরিচয় দিয়েছেন। রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ওই নারী মঞ্চে উঠে সমর্থকদের সমর্থন আহ্বান করেন, ফলে ভোটারদের মধ্যে গুলিয়ে যাওয়া তথ্যের ঝড় তুলেছে।
শহীদ ওসমান বিন হাদির পরিবারের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ এই দাবিকে অস্বীকার করে, নারীকে ‘ভুয়া’ বলে চিহ্নিত করেছেন। পরিবার থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, হাদির তিন বোনের মধ্যে এই নারী কোনোটি নয় এবং তার পরিচয় নিয়ে কোনো প্রমাণ নেই।
ইনকিলাব মঞ্চের সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে উল্লেখ করেন, পরিবারকে সরাসরি জানার পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে নারীটি হাদির পরিবারের কোনো সদস্য নয়। তিনি আরও যোগ করেন, পরিবার ভোটারদেরকে কোনো দল নয়, বরং প্রার্থীর যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছে।
নাহিদ ইসলামের প্রচার শিবিরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই দাবি সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে শিবিরের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শহীদ পরিবারের দাবি অনুযায়ী, এই ধরনের ভুল পরিচয় ব্যবহার করে ভোট সংগ্রহ করা নির্বাচনী নীতির লঙ্ঘন এবং জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্নের দিকে নিয়ে যাবে। পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে, দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা চেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ঢাকা‑১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোট চাওয়া নারী যদি সত্যিই শহীদ পরিবারের সদস্য না হন, তবে এটি তার প্রচার কৌশলের একটি ভুল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে, যা ভোটারদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে, শহীদ পরিবারের স্পষ্ট অবস্থান ভোটারদেরকে দলীয় লাইন অনুসরণ না করে, প্রার্থীর নীতি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধরনের আহ্বান বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে স্বতন্ত্র চিন্তাধারার বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
নাহিদ ইসলামের সমর্থকরা, যদিও এই ঘটনার পর কিছু সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে, তবুও তার প্রচার শিবিরে উপস্থিত ভক্তদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। তারা দাবি করছেন, ভোটাররা ব্যক্তিগত পরিচয়ের বদলে নীতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে তার প্রোগ্রামকে মূল্যায়ন করবে।
শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বিবৃতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে। পরিবার উল্লেখ করেছে, ভোটারদেরকে কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির প্রতি অন্ধভাবে না গিয়ে, দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বোত্তম প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে।
এই ঘটনার পর নির্বাচনী কমিশনের দপ্তরও বিষয়টি নজরে নিয়েছে। যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তবে ভবিষ্যতে প্রার্থনা ও সমর্থনকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কঠোর নিয়ম প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমর্থকদের পরিচয় যাচাই করে, ভুল তথ্যের বিস্তার রোধ করতে পারে। অন্যদিকে, ভোটারদেরও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ঢাকা‑১১ আসনে নাহিদ ইসলামের পক্ষে ভোট চাওয়া নারীকে শহীদ ওসমান বিন হাদির পরিবারের সদস্য না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। পরিবার ভোটারদেরকে ন্যায়সঙ্গত ও যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছে, এবং এই ঘটনার যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই বিষয়টি নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।



