18 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জুবায়ের প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ

জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জুবায়ের প্রশাসনের পক্ষপাতের অভিযোগ

জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সচিব জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ আগারগাঁয়ের ইলেকশন কমিশন সদর দফতরে প্রশাসনের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের প্রস্তুতি চলাকালীন এই অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তিনি পাঁচজনের দলীয় প্রতিনিধির সঙ্গে চিফ ইলেকশন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক নোটিশ দাখিলের কথা উল্লেখ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে জুবায়ের জানান, ইলেকশন কমিশনকে এই বিষয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের কিছু অংশ একপক্ষীয় আচরণ দেখাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত। এই দাবি অনুসারে, তিনি ইলেকশন কমিশনকে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।

জুবায়েরের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক হিংসা ও হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশের দ্বারা তাদের নির্বাচনী অফিসে নানা অজুহাতে আক্রমণ করা হচ্ছে। এসব ঘটনার ফলে কর্মীদের কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হয়েছে।

ঢাকা-১৫ আসনের কথা উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, সেখানে তাদের আমীর শফিকুর রহমানের প্রার্থীতা চলাকালীন নারী কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে হুমকি ও শারীরিক আক্রমণের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটছে এবং তা নির্বাচনের ন্যায়সঙ্গততা ক্ষুণ্ণ করছে। জুবায়েরের মতে, এই আক্রমণগুলো কেবল একক ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্যাটার্নের অংশ।

পটুয়াখালীয়ের বাউফাল জেলায় গত রবিবারের ঘটনার উল্লেখ করে জুবায়ের জানান, প্রায় পনেরোজন জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের অফিসে আক্রমণ করা হয়েছে এবং কর্মীদের শারীরিকভাবে হিংসা করা হয়েছে। বাউফাল উপ-জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারকে তিনি সরাসরি পক্ষপাতী হিসেবে চিহ্নিত করেন। জুবায়েরের মতে, যদি ওই অফিসার দায়িত্বে থাকেন, তবে ঐ এলাকায় স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

ইলেকশন কমিশন জুবায়েরের অভিযোগ শোনার পর কিছু পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে তিনি সতর্ক করেন যে তা তৎক্ষণাৎ কার্যকর না হলে নির্বাচনের শান্তি ও স্বচ্ছতা বিপন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটছে এবং তা দ্রুত সমাধান না হলে ভোটের ফলাফল প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জুবায়েরের মতে, মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় জরুরি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাবে।

জুবায়েরের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইলেকশন কমিশনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ না হলে ভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া কঠিন হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা হারিয়ে যাবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। এই উদ্বেগের মধ্যে, তিনি সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচনী পরিবেশকে নিরাপদ করতে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইলেকশন কমিশন ইতিমধ্যে কিছু তদন্তমূলক কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে জামায়াত-এ-ইসলামি দল এই পদক্ষেপগুলোকে যথেষ্ট দ্রুত না বলে সমালোচনা করে। তারা দাবি করে, প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগের সমাধান না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেওয়া যাবে না।

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের সময়সীমা সংকুচিত হওয়ায়, এই অভিযোগগুলো রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যদি প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে ভোটের ফলাফলকে নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়বে। জুবায়েরের শেষ মন্তব্যে তিনি ইলেকশন কমিশনের ত্বরিত পদক্ষেপের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এই পরিস্থিতিতে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের নজর ইলেকশন কমিশনের কার্যক্রমের উপর কেন্দ্রীভূত থাকবে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গৃহীত হবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনের পক্ষপাতমুক্ত আচরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর। শেষ পর্যন্ত, ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত না হলে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments