গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম (রনি) রাবিবার বিকালে গাজীপুর শহরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে তামিম ইকবালকে উপস্থিত করে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেন। তামিম, দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার, স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে খেলাধুলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করার জন্য সমাবেশে অংশ নেন। এই সভা গাজীপুরের ক্রীড়া অবকাঠামোর অবহেলা ও উন্নয়নের দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে গাজীপুরের বিভিন্ন শাখার ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও সাঁতার খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠের ঘাটতি, প্রশিক্ষণ সুবিধার অভাব, শহীদ বরকত স্টেডিয়ামের সংস্কার, টঙ্গি টেসিস স্টেডিয়ামকে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা, আধুনিক সাঁতার পুল, পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট মাঠ ও ভলিবল কোর্টের নির্মাণের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন। খেলোয়াড়রা উল্লেখ করেন যে বর্তমান অবস্থা তরুণ প্রতিভাদের জাতীয় দল বা পেশাদার লিগে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।
তামিম ইকবাল উপস্থিতি থেকে ক্রীড়া উন্নয়নের কয়েকটি মূল পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি স্কুল পর্যায়ে ক্রিকেটের সূচনা, পাশাপাশি সব ধরনের খেলাধুলার জন্য গাজীপুরে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও আধুনিক সুবিধা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তামিম ভবিষ্যতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রার্থীর সঙ্গে সমন্বয় করে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি উপস্থিত ক্রীড়াবিদদের সমস্যার সমাধানের জন্য রোনিকে সরাসরি অনুরোধ করেন।
প্রার্থী মঞ্জুরুল করিম সভায় গাজীপুরের ক্রীড়া ক্ষেত্রের অবহেলাকে উল্লেখ করে বলেন, “এখানে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, তবু পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় তারা উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না।” তিনি তামিমের সঙ্গে আলোচনা করার উদ্দেশ্যকে ক্রীড়াবিদদের চাহিদা শোনার এবং তা পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন। রনি প্রতিশ্রুতি দেন যে গাজীপুরে নতুন খেলার মাঠ, স্কুলে ক্লাব ও নিয়মিত লিগের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তরুণদের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়।
তামিম ইকবাল রোনির সঙ্গে ২০১৩ সাল থেকে পরিচিতি উল্লেখ করে বলেন, “রনি ভাই আমার পুরনো বন্ধু, তিনি ক্রীড়াপ্রেমী এবং একসময় ঢাকায় লিগ পরিচালনা করেছেন, যেখানে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন।” তামিমের মতে, রোনির এই ক্রীড়া প্রতি উত্সাহ গাজীপুরের খেলোয়াড়দের জন্য আশার আলো জ্বালাবে এবং তিনি নিশ্চিত যে রোনি এই চাহিদাগুলো পূরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।
এই ধরনের ক্রীড়া-ভিত্তিক প্রচারণা গাজীপুরের ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ ও ক্রীড়া উত্সাহীদের মধ্যে বিএনপি-র জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে। তামিমের উপস্থিতি ও তার সমর্থন দলকে ক্রীড়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে আত্মবিশ্বাস জোগাতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, রোনির ক্রীড়া নীতি বাস্তবায়ন হলে গাজীপুরের ক্রীড়া অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আসতে পারে, যা নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাজের দিক নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, গাজীপুর-২-এ তামিম ইকবালের অংশগ্রহণ ক্রীড়া উন্নয়নের দাবি ও প্রতিশ্রুতিকে একত্রিত করে একটি রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করেছে। রোনির সঙ্গে তামিমের সমন্বয় গাজীপুরের ক্রীড়া পরিবেশকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।



