ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভোলা জেলার টিবি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় গোপনভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ (ভারত এ) সঙ্গে বৈঠক করার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি ভোলা-৪ আসনের ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী কামাল উদ্দিনের প্রধান অতিথি বক্তৃতায় এই বিষয়টি উল্লেখ করেন।
কথা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, যখন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের সমর্থনে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছিল, তখন দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছিল এবং সময় গুনছিল। তিনি এই উচ্ছ্বাসের পরেও দুঃখের সঙ্গে জানিয়ে দেন যে, একই নামের একটি গোষ্ঠী স্বার্থপর কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ (ভারত এ) সঙ্গে গোপন আলোচনায় লিপ্ত হয়েছে।
রেজাউল করিমের মতে, ঐ গোষ্ঠী ধর্মীয় ন্যায়বিচারকে বিদেশি স্বার্থের পটভূমিতে ব্যবহার করে, যা ইসলামের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা আর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ (ভারত এ) এর ইনসাফের অপেক্ষা করছি না, আমরা মদিনা ও ইসলামের ইনসাফ চাই।” এই বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় ন্যায়বিচারকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে আলাদা করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের এই মন্তব্যের পটভূমিতে, গত বছর দলটি একটি বাক্সের মাধ্যমে ইসলামের পক্ষে জনমত সংগ্রহের আহ্বান জানায়, যা ব্যাপক জনসাধারণের সাড়া পায়। রেজাউল করিমের আজকের বক্তব্য সেই সময়ের উত্তেজনা ও প্রত্যাশাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তবে এখন তিনি সেই উচ্ছ্বাসকে ম্লান করে এমন গোপন বৈঠকের কথা তুলে ধরেন।
ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী কামাল উদ্দিনের নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হাজারো সমর্থক রেজাউল করিমের বক্তব্যে মনোযোগী ছিলেন। তিনি ধর্মীয় ন্যায়বিচার ও স্বার্থপর রাজনৈতিক চুক্তির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরতে চেয়েছিলেন, যা সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করে।
সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা রেজাউল করিমের মন্তব্যে সমর্থন জানিয়ে হাততালি দেন এবং বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন চুক্তি না করার আহ্বান পুনরায় জোর দেন। কিছু উপস্থিতি প্রশ্ন তুললেও, রেজাউল করিমের বক্তব্যের মূল বিষয়—ধর্মীয় ন্যায়বিচারকে আন্তর্জাতিক স্বার্থের অধীন না করা—বহুজনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে। রেজাউল করিমের গোপন বৈঠকের অভিযোগ দলটির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, রেজাউল করিমের বিদেশি ন্যায়বিচার প্রত্যাখ্যানের বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এ (ভারত এ) সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি না করার ইচ্ছা দেশের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এই ধরনের দাবি নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ব্যবহার করা হলে, তা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, রেজাউল করিমের এই মন্তব্যের ফলে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোটারদের কাছ থেকে ধর্মীয় স্বচ্ছতা ও স্বনির্ভরতা নিয়ে সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে, গোপন বৈঠকের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রেজাউল করিমের আজকের বক্তব্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ধর্মীয় ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য স্থাপন করার আহ্বান জানায়, এবং এটি দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্বাচনের ফলাফল ও জনমতের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে।



