ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি – বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান শ্যামলী ক্লাব গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ঢাকা‑১৩ সমাবেশে জননিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাচ্ছন্দ্যকে উন্নয়নের মূল শর্ত বলে জোর দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশটি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ববি হাজ্জার নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ভক্তদের সামনে তারেক রহমান ববি হাজ্জারকে পার্টির সর্বোচ্চ সমর্থন জানিয়ে, ভোটারদেরকে তারেকের পরিকল্পনা অনুসরণ করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং দেশের সব প্রান্তে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে, যাতে নাগরিকরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
তারেকের মতে, “মা‑বোনদের রাস্তায় নিরাপদে হাঁটা, মানুষ বাড়ি ফিরে শান্তিতে ঘুমানো” দেশের উন্নয়নের ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা না থাকলে কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি সফল হতে পারে না।
বিএনপি’র পক্ষ থেকে একমাত্র বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা আছে, এ কথায় তারেকের দৃঢ়তা স্পষ্ট। তিনি বলেন, “এখনই একমাত্র দল যার কাছে জনগণের ভাগ্য বদলানোর পরিকল্পনা আছে; আমরা যা সম্ভব তা করব, অপ্রাপ্য কিছু প্রতিশ্রুতি দেব না।”
ভোটারদেরকে আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন শাসনকালকে নিরাপত্তা, চলাচল ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন। সমাবেশে তিনি জানিয়েছেন, যদি বিএনপি শাসনে আসে, তবে ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শহুরে ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সংযোগে তিনি অবৈধভাবে নালা দখল করা ও তার ফলে সৃষ্ট চলাচলের বাধা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে সতর্কতা জানান। “যে কেউ নালা বন্ধ করে মানুষের চলাচল বাধা দেয় বা জলাবদ্ধতা বাড়ায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি বলেন।
গত ১৬ বছর ধরে ‘উত্তাল’ নামে পরিচিত রাজনৈতিক অশান্তির সময়ে জনগণ বহু ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা তিনি স্মরণ করে বলেন, এখন ভোটের অধিকার ফিরে এসেছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং এ জন্য বহু প্রাণ হারিয়েছে।
অবশ্যই, বিরোধী দলগুলো তারেকের মন্তব্যকে সমালোচনা করে। আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো দাবি করে, নিরাপত্তা ও জলাবদ্ধতা সমাধান শুধুমাত্র শাসনকালের কথা নয়, বাস্তবায়ন ছাড়া তা কেবল শব্দের খেলা। তারা সরকারের বর্তমান পদক্ষেপের প্রশংসা করে, তবে বিএনপি’র প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সন্দেহ প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই সমাবেশের মাধ্যমে বিএনপি ভোটারদের কাছে নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্পষ্ট বার্তা পৌঁছাতে চায়, যা আসন্ন নির্বাচনে পার্টির অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটারদের মতামত সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে, পার্টির প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা আরও স্পষ্ট হবে।
সামগ্রিকভাবে, তারেকের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপদ চলাচল এবং নগর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে, যা ভোটারদের কাছে পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



