ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) – ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) রায়ের কার্যালয়ে রাত ১০টার দিকে ২১ জন কর্মীকে তাড়া‑উঠানোর ঘটনা দেশীয় গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ভীতিকর প্রভাব ফেলেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘটনাটি ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ও প্রাক‑নির্বাচন পরিস্থিতি’ শীর্ষক টিআইবির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানের সময় ঘটেছে।
রাতের অন্ধকারে, কোনো স্পষ্ট অভিযোগ না থাকলেও, অনামী ব্যক্তিরা ‘বাংলাদেশ টাইমস’ অফিসের সব কর্মীকে জোরপূর্বক বের করে নিয়ে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আটক রাখে; পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। টিআইবি এই ধরনের হঠাৎ হস্তক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য ও স্বৈরতান্ত্রিক বলে সমালোচনা করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তাড়া‑উঠানো দেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। তিনি যুক্তি দেন, এ ধরনের কাজের ফলে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয় এবং আত্ম‑সেন্সরশিপ বাড়ে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান যুক্তি দেন, যদি কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি থাকে, তবে তা সমাধানের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কর্মীদের তাড়া‑উঠানো—যদিও পরে মুক্ত করা হয়েছে—শুধু একক মিডিয়া নয়, সমগ্র দেশের সংবাদ পরিবেশকে ভীতিকর করে তুলেছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান জোর দিয়ে বলেন, সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা কর্মকর্তা এ ধরনের কাজ করতে পারে না। অনুমোদনহীন এই ঘটনা যদি সত্যি হয়, তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
তিনি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে ঘটিত হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও উল্লেখ করেন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে; যদিও দুই দিন আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে ‘জাতির দর্পণ’ বলে প্রশংসা করা হয়েছিল।
সেনাবাহিনীর পূর্ববর্তী ইতিবাচক মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান ঘটনার বৈপরীত্য টিআইবির দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, কথার সঙ্গে কাজের এই অসঙ্গতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করে।
টিআইবি সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে আহ্বান জানায়, ভবিষ্যতে এমন স্বৈরতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ সমাধান করতে। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে অনুরোধ করেন, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
অধিকারের দিক থেকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী প্রাথমিক তদন্ত শুরু হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, এ ধরনের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও প্রাক‑নির্বাচন সময়ে। সাংবাদিকরা যদি ভয়ভীত হয়ে কাজ করতে বাধ্য হন, তবে তথ্যের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুণগত মান হ্রাস পাবে।
টিআইবি এবং অন্যান্য সিভিল সোসাইটি সংগঠন আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি স্বাধীন তদারকি কমিটি গঠন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা আশা করেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দায়বদ্ধ হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ হস্তক্ষেপ রোধ করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, রাতের তাড়া‑উঠানোর ঘটনা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার দ্রুত ও নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।



