গণো অধিকার পরিষদের কুরিগ্রাম‑১ (নাগেশ্বরী‑ভুরুংগামারী) নির্বাচনী প্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা আজ বিকেলে নিজের প্রার্থীতা ত্যাগ করে বাংলাদেশ জামাত‑ই‑ইসলামি দলের আনওয়ারুল ইসলামকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলা ডিএম একাডেমি ফুটবল গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত জামাতের র্যালির সময় এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি জনগণের স্বার্থ ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপকে নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিন ইয়ামিন র্যালিতে বলেন, তিনি জনগণের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য এবং তাদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে জামাতের প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছেন এবং নির্বাচনে আর অংশ নেবেন না। তিনি এটিকে নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ বলে জোর দেন, যা তিনি নিজের রাজনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করেন।
র্যালির প্রধান অতিথি ছিলেন জামাত‑ই‑ইসলামি কুরিগ্রাম জেলা ইউনিটের প্রধান আজিজুর রহমান সরকার, যিনি সমাবেশকে উদ্বোধন করেন। কুরিগ্রাম‑১ প্রার্থী আনওয়ারুল ইসলাম মূল বক্তা হিসেবে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও নির্বাচনী লক্ষ্য তুলে ধরেন। অতিরিক্তভাবে, জেলা ইউনিটের প্রাক্তন প্রধান আবদুল মতিন ফারুকি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাদের ভাষণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, শাসনে স্বচ্ছতা, ন্যায়সঙ্গত শাসন এবং মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য একটি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়। তারা ভোটারদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ন্যায়ের ভিত্তিতে সমাজ গড়ার আহ্বান জানান এবং ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
র্যালিতে উপস্থিত মানুষের বড় সংখ্যাকে জামাতের বিকল্প রাজনীতির প্রতি বাড়তে থাকা জনসাধারণের আগ্রহের সূচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে কুরিগ্রাম জেলায় রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ প্রতিযোগিতামূলক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
কুরিগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৮ জন প্রার্থী চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে কুরিগ্রাম‑১ আসনে বর্তমানে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিন ইয়ামিনের পদত্যাগের ফলে এই সংখ্যা আরও একজনের কমে গেছে।
এই পদক্ষেপের ফলে জামাত‑ই‑ইসলামি দলের প্রার্থীকে অতিরিক্ত সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে এবং কুরিগ্রাম‑১ আসনের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত কিভাবে গঠিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই সমন্বয় স্থানীয় রাজনৈতিক গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিবেদন শেষ।



