বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত তালিকায় শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে ৩৪৮ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মাধ্যমে সুপারিশ প্রাপ্ত এই প্রার্থীদের জন্য নিয়োগ আদেশ প্রকাশ করা হয়। আদেশের অনুসারে, প্রার্থীদেরকে সোমবারই বিভাগে যোগদান করতে বলা হয়েছে এবং জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি‑নায়েমে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যোগদানের পর বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তারা দুই বছর শিক্ষনবিস হিসেবে কাজ শুরু করবে।
প্রভাষক পদে নির্বাচিত ৩৪৮ জনের পাশাপাশি, মোট ১,৪৯০ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের আদেশ শনিবারই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশ করে। এই আদেশে উল্লেখ আছে যে, নির্বাচিত সকল প্রার্থীর যোগদান ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে অস্থায়ীভাবে পদে বসানো হবে।
ফলাফল প্রকাশের ধারাবাহিকতা ১১ নভেম্বর অবধি চলেছিল, যখন ত্রুটি‑বিচ্যুতি সংশোধনের পর ১,৬৭৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তৃতীয়বারের মতো ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে পিএসসি নিশ্চিত করে। পূর্বে ৩০ জুন প্রথম দফার ফলাফল প্রকাশের পর ১,৬৯০ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষিত করা হয়েছিল, তবে ৩০৩ জন প্রার্থী একই ক্যাডার বা তাদের পছন্দের নিচের ক্যাডারে ইতিমধ্যে সুপারিশ পেয়ে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত নেন।
এই অনুপস্থিত প্রার্থীদের জন্য ৬ নভেম্বর একটি সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ত্রুটি‑বিচ্যুতি সংশোধন করে নতুন তালিকা প্রদান করা হয়। ফলে মোট নিয়োগের সংখ্যা ১,৭১০ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, যা ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত ৪৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সংখ্যা।
বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা ২০২৪ সালের এপ্রিলে শুরু হয়, তবে ছাত্র আন্দোলনের কারণে প্রথম দফা এবং সরকার পরিবর্তনের পর ২৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফা স্থগিত করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় মোট ১১,৭৩২ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৩,৯৩০ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ন্যায্যতা বজায় রাখতে পূর্বের মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে নতুনভাবে ভিভা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
পিএসসি ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় ভিভা নেওয়া শুরু করে এবং নতুন ফলাফল অনুযায়ী প্রার্থীদেরকে পুনরায় নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করে। এই পুনরায় নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে ৩৪৮ জনের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যাডারের জন্যও প্রয়োজনীয় পদ পূরণ করা হবে।
প্রশাসনিক দিক থেকে, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদেরকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি‑নায়েমে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে, যা দুই মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দুই বছর শিক্ষনবিস হিসেবে কাজ করবে, যার পরে পারফরম্যান্স রিভিউয়ের মাধ্যমে স্থায়ী পদে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের নতুন প্রভাষকরা এখনো তাদের প্রথম দায়িত্বের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; তারা স্কুল‑কলেজে পাঠদান, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ইত্যাদি কাজের জন্য প্রস্তুত হবে। এই পদে যোগদানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পাঠকের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি ভবিষ্যতে বিসিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দিন। এছাড়া, সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সময়সূচি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে ফলাফল প্রকাশের পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ফলাফলের তথ্য আগে থেকেই জানা সম্ভব।



